অন্নপূর্ণা যোজনায় আরও কড়া যাচাই! সেপ্টেম্বরে টাকা পেলেও অক্টোবরের ৩ হাজার টাকা কি আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকবে?

বাংলার কোটি কোটি মহিলাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট। সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যের বহু মহিলা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র (Annapurna Yojana) ৩ হাজার টাকা হাতে পেলেও, অক্টোবরের কিস্তি পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় সংশয়। কারণ এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এবার আরও অনেক বেশি কড়া করা হয়েছে। ফলে শুধু আগের মাসে টাকা পেয়েছেন বলেই আগামী কিস্তি নিশ্চিত— এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

যাচাইয়ে কড়াকড়ি ও বাড়ি বাড়ি সার্ভে: গত ১৭ সেপ্টেম্বর ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ উপলক্ষে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এত বিশাল সংখ্যক উপভোক্তার তথ্য একসঙ্গে যাচাই করা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এই প্রক্রিয়া এখনও চলমান। মন্ত্রী মালতি রাভা রায় আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, টাকা পাওয়ার পরেও যদি পরবর্তী যাচাইয়ে কেউ অযোগ্য প্রমাণিত হন, তবে তাঁর নাম তালিকা থেকে তৎক্ষণাৎ বাদ দেওয়া হবে। শুধু অনলাইনে দেওয়া তথ্যই নয়, বর্তমানে একেবারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রিয়েল-টাইম পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে।

কারা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন? অন্নপূর্ণা প্রকল্পে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে পেয়ে থাকেন। তবে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে:

  • স্থায়ী সরকারি চাকরিজীবী বা নিয়মিত সরকারি বেতন ও পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে।

  • যাঁদের বাড়ি বা পরিবারে নিয়মিত আয়কর দেওয়ার মতো পরিস্থিতি রয়েছে, তাঁরাও এই সুবিধা পাবেন না।

  • আবেদনের সময় কেউ যদি ভুল তথ্য দিয়ে থাকেন বা কোনো তথ্য গোপন করে থাকেন, তবে তাঁর নাম বাতিল হতে পারে।

অক্টোবরের টাকা কবে ঢুকবে? অক্টোবর মাসের টাকা ঠিক কবে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করেনি সরকার। তবে এর আগে নিয়ম ছিল যাচাই সম্পন্ন হওয়া যোগ্য উপভোক্তারা প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে টাকা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নথি যাচাইয়ের কাজ দ্রুত চলছে এবং যোগ্য প্রতিটি উপভোক্তা তাঁদের প্রাপ্য টাকা পাবেন, কাউকে বঞ্চিত করা হবে না।

টাকা না এলে বা স্ট্যাটাসে সমস্যা থাকলে কী করবেন? আপনার যদি আবেদন স্ট্যাটাসে ‘Under Enquiry’, ‘Under Process’ কিংবা ‘Rejected’ দেখায়, তবে চিন্তার কারণ রয়েছে। এই সমস্ত সমস্যা সমাধানের জন্য গত ২ অক্টোবর থেকে ‘সেবা সেতু শিবির’ শুরু হয়েছে, যেখানে গিয়ে সরাসরি সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানানো যাবে।