অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে কেন এত কড়াকড়ি? ভিন রাজ্যের এই কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি দেখলে চোখ কপালে উঠবে!

যোগ্য আবেদনকারীদের একাংশ এখনও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। তবে উপভোক্তাদের নামের তালিকা যাচাইয়ে রাজ্য সরকার কেন এত কড়া অবস্থান নিয়েছে, তার পেছনের কারণ স্পষ্ট হয়েছে প্রতিবেশী এক বিরোধী শাসিত রাজ্যের সাম্প্রতিক তথ্যে। মহিলাদের জন্য চালু হওয়া এই কল্যাণমুখী প্রকল্পের অনুকরণে রাজ্যজুড়ে ভুয়া আবেদনকারীদের ঠেকাতে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন।
তথ্য জানার অধিকার আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহারাষ্ট্র সরকারের এই বিপুল জনমুখী প্রকল্পে এক বড়সড় গরমিল সামনে এসেছে। প্রকাশিত তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা মহিলাদের সহায়তার জন্য তৈরি ওই প্রকল্পে বহু অযোগ্য ব্যক্তিও দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক সুবিধা তুলে নিয়েছেন। যাচাই প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ পার হওয়ার পরেও বড় অঙ্কের অর্থ ভুল অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তালিকা তৈরিতে নিখুঁত স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো ফাঁকফোকর না রাখতে কঠোর পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
মহারাষ্ট্রের মহাযুতি সরকার মূলত আর্থিক দিক থেকে অসচ্ছল নারীদের সামাজিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনী সাফল্যের নেপথ্যেও এই ধরনের প্রকল্পের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। তবে বৃহৎ পরিসরে এই ধরনের যোজনা বাস্তবায়িত করার সময় ত্রুটি সামনে চলে আসে। জানা গিয়েছে, বহু আবেদনকারী সমস্ত শর্ত পূরণ না করা সত্ত্বেও বা স্বচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও প্রকল্পের অর্থ পেতেন। পরবর্তী সময়ে তালিকা নতুন করে যাচাই করার পর বড় সংখ্যার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একটা বড় অংশের উপভোক্তা কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেননি।
এই ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং আর্থিক তছরুপ এড়ানোর জন্যই পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার বা সমমানের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে উপভোক্তা বাছাইয়ের সময় নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপে কিছুটা সময় বেশি লাগলেও, সঠিক প্রাপকের কাছেই যাতে সরকারি অর্থ পৌঁছয় এবং কোনো ভুয়া উপভোক্তা প্রকল্পের সুবিধা নিতে না পারে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতেই এই কঠোর নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।