বাংলাদেশে ফের গণতন্ত্রের ডামাডোল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেশী রাষ্ট্রে হতে চলেছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তবে এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের নয়, বরং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণেরও লড়াই। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) সহ একাধিক কমনওয়েলথ দেশকে আমন্ত্রণ জানাল ঢাকা।
একই সঙ্গে জোড়া ভোট: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সাক্ষী হতে চলেছে এক অনন্য সাধারণ ঘটনার। ওই দিন শুধু জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনই হবে না, পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলির স্মৃতিবাহী ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত যাচাই বা গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। ইউনূস সরকারের কাছে এই ‘জুলাই সনদ’ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অন্যতম মূল ভিত্তি।
নজিরবিহীন আমন্ত্রণ: এর আগে শেখ হাসিনার জমানাতেও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ডাকা হতো। তবে ইউনূস সরকারের দাবি, অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে এবার একসঙ্গে এত বেশি সংখ্যক আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ইইউ, কমনওয়েলথ সচিবালয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দপ্তরে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।
কেন এই সতর্কতা? ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া যাতে শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু এবং হিংসামুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করতে চায় বর্তমান প্রশাসন। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে আন্তর্জাতিক স্তরে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছে ইউনূস সরকার।
বিশ্বের নজর এখন ঢাকার দিকে: ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। একদিকে বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রস্তুতি, অন্যদিকে জুলাই সনদের প্রভাব—সব মিলিয়ে ঢাকার রাজপথ এখন ভোটের জ্বরে কাঁপছে।