সাবধান! দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ সহ উত্তর ভারতে শৈত্যপ্রবাহের চূড়ান্ত সতর্কতা, তাপমাত্রা নামবে ২°C পর্যন্ত!

ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তর (IMD) ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থান সহ উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির জন্য শৈত্যপ্রবাহের (Cold Wave) সতর্কতা জারি করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর ও মধ্য ভারতের বেশিরভাগ অংশে শীতের তীব্রতা বাড়বে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কমবে।

তাপমাত্রার পূর্বাভাস: ২°C পর্যন্ত পতন
আইএমডি পূর্বাভাস দিয়েছে যে আগামী দুই দিনে উত্তর-পশ্চিম ভারতের সমভূমি অঞ্চলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ধীরে ধীরে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পাবে। এর পরবর্তী দুই দিন তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন হবে না, তবে তার পরের তিন দিনে তাপমাত্রা ২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে।

অন্যদিকে, মধ্য ভারতে আগামী চার দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে না এবং পরবর্তী তিন দিন ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে।

শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা এবং ঘন কুয়াশা
আইএমডি জানিয়েছে, ৯ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের মধ্য, পূর্ব এবং উপদ্বীপের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ১০ ডিসেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম ভারত সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম ভারতে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আগামী দিনগুলিতে আসাম, মণিপুর, উত্তর প্রদেশ এবং ওড়িশার কিছু অংশে সকালে ঘন কুয়াশা থাকবে। আসাম এবং মণিপুরের জন্য ৯ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যেখানে পূর্ব উত্তর প্রদেশ এবং ওড়িশায় ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নতির আশা করা হচ্ছে।

রাজ্যভিত্তিক শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস (৯ থেকে ১২ ডিসেম্বর):
৯ থেকে ১২ ডিসেম্বর: মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় এবং ওড়িশার বিচ্ছিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।

১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর: পাঞ্জাবে শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা।

৯ এবং ১০ ডিসেম্বর: বিদর্ভ এবং তেলেঙ্গানায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে।

১১ ও ১২ ডিসেম্বর: হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, দিল্লি, উত্তর রাজস্থান, মধ্য মহারাষ্ট্র এবং মারাঠওয়াড়ায়ও শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব: কী করবেন?
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শৈত্যপ্রবাহের কারণে বেশ কিছু স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে:

স্বাস্থ্য ঝুঁকি: দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডায় থাকার ফলে ফ্লু, নাক দিয়ে পানি পড়া/বন্ধ হয়ে যাওয়া, অথবা নাক দিয়ে রক্তপাতের মতো অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সতর্কতা: কাঁপুনি উপেক্ষা করবেন না, কারণ এটি শরীরের তাপ কমে যাওয়ার প্রথম লক্ষণ। ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তুষারপাত (Frostbite): ঠান্ডায় দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে ত্বক ফ্যাকাশে, শক্ত এবং অসাড় হয়ে যেতে পারে, যা আঙুল, পায়ের আঙ্গুল, নাক এবং কানের লতির মতো উন্মুক্ত অংশে কালো ফোস্কা সৃষ্টি করতে পারে। তীব্র তুষারপাতের জন্য তাৎক্ষণিক চিকিৎসার প্রয়োজন।

অন্যান্য প্রভাব: কিছু অঞ্চলে কৃষি, ফসল, পশুপালন, পানি সরবরাহ, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ খাতও এই শীতল পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy