বাস্তুশাস্ত্র মতে, বাড়ির ঠাকুরঘরে দেব-দেবীর মূর্তি বা ছবি সঠিক নিয়মে সাজানো অত্যন্ত জরুরি। সামান্য ভুলচুকও জীবনে অমঙ্গল, নেগেটিভ এনার্জি বা পারিবারিক অশান্তি ডেকে আনতে পারে। তাই সংসারের শান্তি বজায় রাখতে কিছু দেব-দেবীকে একসঙ্গে রাখা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত।
যে দেব-দেবীকে ঠাকুরঘরে একসঙ্গে রাখা উচিত নয়:
শনিদেব ও রাহু-কেতু: বাস্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই তিনজনের মূর্তি বা ছবি একসঙ্গে রাখা জীবনে বড় ধরনের সমস্যা বাড়ায়, বিশেষত কর্মজীবনে বারবার বাধা আসতে পারে। তাই শনিদেব, রাহু ও কেতুর মূর্তি বা ছবি সব সময় আলাদা স্থানে রাখতে হয়।
ক্রুদ্ধ বা ভয়ানক রূপের দেবদেবী: মূল ঠাকুরঘরে ভীষণ কালী (উগ্র রূপ) বা ভৈরবের মতো ক্রোধ বা ভয় জাগানো দেব-দেবীর মূর্তি রাখা অশুভ। এগুলি নেগেটিভ এনার্জি তৈরি করে এবং সংসারের শান্তি নষ্ট করে। এই ধরনের মূর্তি মূল পূজার স্থানে রাখা উচিত নয়।
ভাঙা মূর্তি বা ছবি: কোনও দেব-দেবীর মূর্তি বা ছবি সামান্য ভেঙে গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে সরিয়ে ফেলা উচিত। ভাঙা মূর্তি বা ছবি রাখলে তা অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয় এবং বাস্তুদোষ তৈরি হয়।
একই দেবতার একাধিক বড় মূর্তি: একই দেবতার একাধিক বড় মূর্তি বা ছবি মূল ঠাকুরঘরে রাখা বাস্তু দোষ তৈরি করতে পারে।
যে দেব-দেবীকে একসঙ্গে রাখতে পারেন (শুভ ফল পেতে):
শিব, পার্বতী ও গণেশ: এই ত্রয়ীকে একত্রে রাখা পারিবারিক শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।
লক্ষ্মী ও সরস্বতী: সম্পদ ও জ্ঞানের দেবী লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে একসঙ্গে রাখা অত্যন্ত শুভ। লক্ষ্মীর পাশে সরস্বতীকে রাখলে জ্ঞান ও ধন উভয়ই লাভ করা যায়।
রাম, সীতা ও লক্ষ্মণ/হনুমান: রাম-সীতার সঙ্গে লক্ষ্মণ বা হনুমানের ছবি রাখা পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করে এবং ঘরে মঙ্গল বজায় থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ বাস্তু টিপস (পূজার স্থান):
পূজার স্থান নির্বাচনের জন্য ঈশান কোন (উত্তর-পূর্ব দিক) হচ্ছে সবচেয়ে মঙ্গলময় দিক। এছাড়া, ঠাকুরঘর পূর্ব বা উত্তর দিকেও করা যেতে পারে। এই দিকগুলি ইতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে এবং পূজার শুভ ফলকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।