মালদহের চাঁচলের গৌড়হন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের এনায়েত নগর এলাকায় সরকারি শৌচালয় ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগ ঘিরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী জিয়াউল হক। এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে গুরুতর হামলার শিকার হয়েছেন দু’জন ব্যক্তি।
হামলার অভিযোগ: সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর
জানা গিয়েছে, আহতরা হলেন আব্দুল মাতিন ও মোক্তার আলী, দু’জনের বাড়িই এনায়েত নগর এলাকায়। প্রতিবাদকারী আহতদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী জিয়াউল হক আর্থ মুভার (Earth Mover) ব্যবহার করে একটি সরকারি শৌচালয় গুঁড়িয়ে দেন, উদ্দেশ্য ছিল জমি দখল।
এই ঘটনা দেখে আব্দুল মাতিন ও মোক্তার আলী প্রতিবাদ করতে যান।
ধারালো অস্ত্রের কোপে জখম
প্রতিবাদ করার সময় যখন আব্দুল মাতিন ও মোক্তার আলী তাঁদের মোবাইল ফোনে ভাঙচুরের ছবি তোলার চেষ্টা করেন, তখনই পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী জিয়াউল হক ও তাঁর দলবল তাঁদের উপর চড়াও হয়।
-
আক্রমণ: অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র (হাঁসুয়া) দিয়ে তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হন আব্দুল মাতিন ও মোক্তার আলী।
-
চিকিৎসা: আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মোক্তার আলীর অবস্থা আরও গুরুতর হওয়ায় তাঁকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশি তৎপরতা ও তদন্ত
আহতরা চাঁচল থানায় পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী জিয়াউল হক-সহ আটজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও অভিযুক্ত জিয়াউল হক নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে এই ঘটনার পর গোটা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে যাতে কোনো গণ্ডগোল না হয়, তার জন্য এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে চাঁচল থানার পুলিশ।