ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) মঙ্গলবার সকালে রাঁচির এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA)-এর প্রায় ৯০০ কোটি টাকার বেনামী সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে।
অভিযুক্ত ওই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের নাম নরেশ কুমার কেজরিওয়াল। মঙ্গলবার সকালে ইডি-র একাধিক দল রাঁচি, বাণিজ্যনগরী মুম্বই এবং গুজরাটের সুরাটের তাঁর বিভিন্ন ঠিকানায় অভিযান চালায়। নরেশ কেজরিওয়াল একজন সন্দেহভাজন হাওয়ালা অপারেটর বলে ইডি আধিকারিকরা জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হাওয়ালার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
ফেমা (FEMA) আইনে মামলা ও বিদেশে সম্পত্তি:
ইডি-র তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিদেশি মুদ্রা অবৈধ লেনদেন আইন (FEMA – Foreign Exchange Management Act) অনুসারে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই অভিযানের মূল কারণ—নরেশ কুমার কেজরিওয়াল এবং তাঁর সহযোগীদের বিদেশে বেনামী সম্পত্তি রাখা।
আয়কর বিভাগের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিযোগ, নরেশ কেজরিওয়ালের সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE), নাইজেরিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেনামী শেল কোম্পানি বা বেনামী সম্পত্তি রয়েছে, যা ভারত থেকেই পরিচালিত হয়। তল্লাশিতে নরেশের পরিবারের কিছু সদস্য এবং সহযোগীদের বাড়ি ও অফিসও ইডি-র স্ক্যানারে এসেছে।
১৫০০ কোটি টাকার ভুয়ো ট্রান্সফার:
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আরও জানিয়েছে যে, নরেশের এই হিসাববহির্ভূত সম্পত্তির পরিমাণ ৯০০ কোটি টাকারও বেশি। সন্দেহ করা হচ্ছে যে, প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা ভুয়ো ট্রান্সফারের মাধ্যমে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ইডি-র দাবি, এই বিদেশি সম্পত্তিগুলি আইনগতভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি। নরেশের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের মামলা নয়, ফেমা আইনে মামলা রুজু করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।