লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনায় উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই অব্যবস্থা নিয়ে রাজ্যের প্রশাসক ও শাসক দলের বিরুদ্ধে যখন বাম-বিজেপি উভয়েই তোপ দেগে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছে, তখন ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর নীরবতা ভাঙলেন স্বয়ং রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী।
শনিবার সকালে যুবভারতীতে ‘ফুটবলের ভগবান’ মেসি পৌঁছনোর কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মেসি যখন মাঠ প্রদক্ষিণ করছিলেন, ঠিক সেই সময় দর্শকাসন থেকে বোতল ছোড়া শুরু হয়। পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ায় সময়ের অনেক আগেই মেসিকে মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যেতে হয়। কার্যত দর্শকরা মেসিকেই দেখতে পাননি। এর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে দর্শকরা, চলে ভাঙচুর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মাঝপথ থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যান।
মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন অরূপ বিশ্বাস। তাঁকে ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণের বিষয়ে তিনি শুধুমাত্র একটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন: “সরকার ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। যতক্ষণ তদন্ত চলছে, ততক্ষণ কোনও মন্তব্য করব না।” এ কথা বলেই তিনি দ্রুত গাড়িতে উঠে বেরিয়ে যান।
তদন্ত কমিটি গঠন: উল্লেখ্য, পুরো ঘটনার তদন্তের নির্দেশ ইতিমধ্যেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্ত কমিটির সভাপতিত্ব করবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়, এবং কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের অতিরিক্ত সচিব।
বিরোধীদের কঠোর দাবি: এদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী এবং তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে বিরোধীরা তাদের ক্ষোভ বজায় রেখেছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম দাবি জানিয়েছেন: “সবার টিকিটের দাম ফেরাতে হবে। অরূপ বিশ্বাস এবং সুজিত বোসকে মন্ত্রিসভা থেকে সরাতে হবে এবং আইনি পদক্ষেপ করতে হবে।” একই সুরে তোপ দেগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও অরূপ বিশ্বাসকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।