লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হওয়া চরম বিশৃঙ্খলা এবং ভাঙচুরের ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের ফুটবলপ্রেমীদের কাছে প্রধান খলনায়ক হয়ে উঠেছেন অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। গ্রেফতার হওয়া সত্ত্বেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে ‘প্রতারক’ বলে তীব্র সমালোচনা চলছে।
ফুটবলপ্রেমীদের রোষ শতদ্রুর হুগলি জেলার রিষড়ার বাঙুর পার্কের বাড়িতে আছড়ে পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় পুলিশি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
-
পুলিশি সতর্কতা: অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রিষড়া থানার পক্ষ থেকে শতদ্রুর বাড়ির সামনে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে থানায় বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
-
বর্তমান পরিস্থিতি: এখনও পর্যন্ত শতদ্রুর বাড়িতে জনতার ক্ষোভের সরাসরি বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। তবে পুলিশ কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ।
কে এই শতদ্রু দত্ত?
শ্রীরামপুর হোলি হোম স্কুলে পড়া শতদ্রু ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলতেন। একসময় বেসরকারি সংস্থায় কাজ করলেও পরে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজে বড় পদক্ষেপ নেন।
-
তারকা আনয়ন: তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের বাংলায় নিয়ে এসে চমকে দিতে শুরু করেন। ফুটবল ভক্তরা যাঁদের এক ঝলক দেখার জন্য দূর-দূরান্ত পাড়ি দেন, সেই সব তারকাকে তিনি কলকাতায় আনেন। পেলে, কাফু, এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এবং রোনাল্ডিনহো গাউচো-র মতো ফুটবলারদের কলকাতায় নিয়ে আসার কৃতিত্ব তাঁরই।
-
মেসিকে আনা: লিওনেল মেসিকে আনার জন্য তিনি বহু কাঠখড় পুড়িয়েছেন। মেসির বাবার সঙ্গে দেখা করে রাজি করানোর পর মেসির সঙ্গে দিনক্ষণ ঠিক করেন।
কিন্তু শনিবার সেই মেসি শো-এর জন্য বহু লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি হলেও মেসি-দর্শন না করতে পেরে হাজার হাজার ভক্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, যার ফলে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং শতদ্রু গ্রেফতার হন।
প্রতিবেশীরাও হতাশ
শতদ্রুর প্রতিবেশীরাও এই ঘটনায় হতাশ। তাঁরা বলেন, “এর আগে যখন মার্টিনেজ এলেন তখন সব ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু শনিবার অব্যবস্থার কারণে কেউ মেসিকে দেখতেই পাননি।” তাঁরা আরও জানান, নেতা-মন্ত্রীদের ভিড়ে মেসিকে ঘিরে থাকা এবং মাঠ প্রদক্ষিণ না করে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনি মাঠ ছেড়ে যাওয়ায় দর্শকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।