রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সম্প্রতি ভারত সফর বৈশ্বিক মঞ্চে দুই দশকের পুরনো বন্ধুত্বকে আরও একবার দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে। কিন্তু দুই দেশের এই ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একেবারেই পছন্দ হয়নি। ভারত থেকে রুশ তেল কেনা নিয়ে আমেরিকা আগেই ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিল। এবার নতুন করে ভারতের চাল রপ্তানির ওপরও শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে আমেরিকান কৃষি ও কৃষকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলাকালীন এই বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। লুইসিয়ানার একজন প্রধান চাল উৎপাদক মেরিল কেনেডি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানান যে, ভারত, থাইল্যান্ড এবং চীন আমেরিকান বাজারে সস্তা দামে চাল ‘ডাম্প’ করছে, যার ফলে স্থানীয় আমেরিকান কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অভিযোগটি শোনার পরই ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, “ভারতকে কেন এটা করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে? তাদের অবশ্যই শুল্ক দিতে হবে।”
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে চালের উপর অতিরিক্ত ট্যারিফ আরোপ করে এই সমস্যাটি এক দিনেই সমাধান করা যেতে পারে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম চাল রপ্তানিকারক দেশ এবং বিশ্ব বাজারে এর প্রায় ৩০ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। সোনা মাসুরি সহ বিভিন্ন ভারতীয় চালের প্রকারভেদ আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো বাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
যদি আমেরিকা ভারতীয় চালের উপর নতুন শুল্ক আরোপ করে, তবে তা কেবল ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্যই নয়, পুরো বৈশ্বিক চালের বাজারের জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে। এর আগে ভারত-রাশিয়া শক্তি অংশীদারিত্ব নিয়ে আমেরিকা অস্বস্তিতে ছিল। এবার চাল বিতর্কের জেরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেল।