বেকারত্ব হ্রাসে বাংলাই সেরা! এমএসএমই সম্মেলনে নীতি আয়োগের রিপোর্ট পেশ করে রেকর্ড উন্নতির দাবি মমতার

বাংলার অর্থনৈতিক প্রগতি এবং কর্মসংস্থান নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার সমালোচনার কড়া জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) সম্মেলনে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, জাতীয় গড়ের তুলনায় রাজ্যে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। নীতি আয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, রাজ্যে বেকারত্বের হার ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতার মূল পয়েন্টগুলি:

  • বাণিজ্যের গেটওয়ে বাংলা: মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলা হলো বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়েই এখানে প্রকৃত ব্যবসা সম্ভব।”

  • এমএসএমই সেক্টরের জয়জয়কার: রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ শুধুমাত্র ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে কাজ করেন। এছাড়া ১.৫ কোটি মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ছোট শিল্পই রাজ্যের অর্থনীতির আসল মেরুদণ্ড।

  • অনলাইন বনাম পাড়ার দোকান: শপিং মল বা অনলাইনের যুগে ছোট ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, “হুট করে অতিথি এলে পাড়ার মুদি দোকানই ভরসা। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফেল করলে এই ছোট দোকানগুলোই সাপ্লাই চেইন সচল রাখে।”

  • নোটবন্দির সমালোচনা: নগদ টাকার প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে তিনি কেন্দ্রের নোটবন্দির সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর নিজের কোনো ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড নেই এবং সাধারণ মানুষের হাতে নগদ টাকা থাকলেই অর্থনীতি মজবুত হয়।

  • জিআই ট্যাগের সেঞ্চুরি হাঁকানোর লক্ষ্য: বাংলার ৩৬টি পণ্যের জিআই স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি যা, তাতে ৩৬০০ পণ্যের জিআই ট্যাগ পাওয়া উচিত।” নকশি কাঁথা থেকে জয়নগরের মোয়া— বাংলার নিজস্ব সম্পদকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

বেকারত্ব নিয়ে নীতি আয়োগের তথ্য: বিরোধীদের তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২২-২৩ সালের নীতি আয়োগের রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলায় বেকারত্বের হার মাত্র ২.২ শতাংশ। রফতানি বাণিজ্যও দ্বিগুণ বেড়ে ১ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। কৃষি ও পরিকাঠামোতেও বাংলা জাতীয় গড়ের ওপরে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সম্পাদকের বিশ্লেষণ: মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক শক্তিশালী হাতিয়ার হতে চলেছে। এমএসএমই সেক্টরে বাংলার এই প্রগতি কর্মসংস্থানের অভাব নিয়ে বিরোধীদের যে চাপে ফেলবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy