বিজয় দিবসের ঠিক আগে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। বছরখানেক আগে গণ অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। নোবেলজয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশের শাসনভার পরিচালিত হলেও এখনও কোনো নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দেশের দ্রুত পরিস্থিতির স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও, এই ‘ঘরোয়া বিষয়’ নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা।
আগামীকাল, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিজয় দিবস। তার আগে আজ সোমবার কলকাতার লোকভবনে মুক্তিযোদ্ধাদের বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস।
রাজ্যপালের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগ প্রকাশ করে বলেন, “বিজয় দিবস শুধুমাত্র ঐতিহাসিক দিন নয়, সাহস, আত্মত্যাগ এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে ন্যায় আদায়ের জীবন্ত স্মারক। ১৯৭১ সালে অপরিসীম ত্যাগ ও অটল সংকল্পের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। যার প্রতীক মুক্তিযোদ্ধারা।”
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নীরবতা
তবে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াবে কি না, বা গত দেড় বছরে দেশে যা ঘটেছে, তা স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না— এমন কোনো প্রশ্নের উত্তর তাঁরা দেননি।
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সদস্য প্রাক্তন মেজর জেনারেল কামরুল আবেদিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সকলে জানেন, খোঁজখবর রাখেন। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছিলাম, তার থেকে আলাদা। আশা করছি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। আমরা ভালো দিনের জন্য আশা করছি। মুক্তিযুদ্ধ ৫৪ বছর পেরিয়ে গিয়েছে, কিন্তু এখনও মনে হয় গতকালের ঘটনা।”
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য আবদুল্লা হিল শাহী বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে আমরা প্রশিক্ষণ পেয়েছিলাম। আমরা আপ্লুত। আজও তারা আমাদের সম্মানিত করলেন। এটাই আমাদের কাছে গর্বের। কিন্তু, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো প্রশ্নের জবাব দেওয়া ঠিক হবে না।”