মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের শিলান্যাসকে কেন্দ্র করে তুমুল রাজনৈতিক উত্তেজনা। এই বিতর্কিত অনুষ্ঠানের ঠিক আগে, ভরতপুরের বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে একজোট হওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন। শনিবার দুপুরেই বেলডাঙা ও রেজিনগর সংলগ্ন ছেতিয়ানি মরাদিঘিতে এই মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা হুমায়ুনের।
হুমায়ুন কবীরের হুঁশিয়ারি
অনুষ্ঠান শুরুর আগে সভাস্থলে পৌঁছে হুঁশিয়ারির সুরে হুমায়ুন কবীর বলেন, “বাংলায় ২ কোটি ৮২ লক্ষ ৫৩৩ মুসলিম ভোটার রয়েছেন। ৯০টি আসনে সংখ্যালঘু ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি আসনেই আমাদের সংখ্যালঘু প্রতিনিধিদের জয়ী করতে হবে। রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটারদের একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে।”
মসজিদের শিলান্যাসকে ঘিরে জনজোয়ার
শিলান্যাস অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকায় এদিন সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক মানুষের ঢল নামে।
ভক্তদের ভিড়: অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় ভক্তরা যেভাবে ইট নিয়ে এসেছিলেন, একইভাবে হুমায়ুনের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের শিলান্যাসেও কয়েকশো মানুষ মাথায় ইট নিয়ে হাজির হন বেলডাঙা ১ নম্বর ব্লকের ছেতিয়ানি মরাদিঘিতে।
অনুষ্ঠান: হুমায়ুন জানিয়েছেন, দুপুর ১২টা থেকে কোরান পাঠের মাধ্যমেই মসজিদের শিলান্যাস করা হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশাল বাহিনী
এই সংবেদনশীল ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
নিরাপত্তা: এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, ২৫০ জন র্যাফ, ১০০ জন কনস্টেবল এবং একাধিক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিক। রাতে এলাকায় রুট-মার্চও করেছে বাহিনী।
পুলিশের উদ্যোগ: শুক্রবার সন্ধ্যায় হরিহরপাড়া ও রেজিনগর থানার দুই ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক হুমায়ুনের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেন। জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমস্তরকম ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর হস্তক্ষেপ
তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ককে বাগে আনতে এবং মসজিদ নির্মাণ থেকে বিরত রাখতে শুক্রবার রাতে সার্কিট হাউসে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।
দলের অবস্থান: হুমায়ুনের নাম না-করে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বলেন, “ওনার সঙ্গে দলের একটা দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল। আজ তা এই জায়গায় পৌঁছেছে। এতে দলেরই ক্ষতি হচ্ছে। দলের আগেই ভাবা উচিত ছিল। তাহলে এই পরিস্থিতি হত না।”
ধর্মীয় আহ্বান: তিনি আলেম, ইমাম এবং যুবসমাজকে এই অনুষ্ঠানে গা না ভাসিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং মুসলিম ধর্ম মেনেই কাজ করার পরামর্শ দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, হুমায়ুনকে সরিয়ে আনতেই সিদ্দিকুল্লাকে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাবরি মসজিদ নির্মাণের কথা জানানোয় গত বৃহস্পতিবার, অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বর, হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে সাসপেন্ড করে তৃণমূল।