আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক শিল্পই আজ বিলুপ্তির পথে, কিন্তু পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর বিধানসভার কলাবনীর কালিন্দী পাড়া আজও তার ব্যতিক্রম। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঁশের কাজে নিজেদের সঁপে দিয়েছেন এখানকার প্রায় ১৫০টি পরিবার। কুলো, খাঁচা থেকে শুরু করে গৃহস্থালির নানা সামগ্রী— তাঁদের হাতের জাদুতে বাঁশ হয়ে ওঠে অমূল্য শিল্পকর্ম।
ঐতিহ্যই রুটিরুজি: এই গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ঢুকলে দেখা যাবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ব্যস্ত বাঁশ চেরাই আর বুননের কাজে। গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণিমা কালিন্দী ও সন্ধ্যা কালিন্দীরা জানান, এই শিল্পই তাঁদের পরিচয়। পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক কিছুটা কম হলেও, তাঁরা এই ঐতিহ্যবাহী পেশা ছাড়তে রাজি নন। ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় কাজ, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।
রাজ্যজুড়ে কদর: কালিন্দী পাড়ার তৈরি এই হস্তশিল্পের চাহিদা এখন শুধু পুরুলিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাঁদের নিপুণ হাতে তৈরি বাঁশের জিনিসপত্র এখন পৌঁছে যাচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। প্লাস্টিকের ভিড়েও বাঁশের তৈরি কুলো বা খাঁচার মতো পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদা যে কমেনি, এই শিল্পীদের সাফল্যই তার প্রমাণ।
সংগ্রাম ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন: কালিন্দী পরিবারের সদস্যদের কাছে এটি কেবল জীবিকা নয়, বরং পূর্বপুরুষদের থেকে পাওয়া এক পবিত্র উত্তরাধিকার। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও তাঁরা এই শতাব্দী প্রাচীন লোকশিল্পকে আগলে রেখেছেন। এই হাতে গড়া শিল্পকর্ম বিক্রি করেই তাঁদের জীবনের চাকা ঘোরে, চলে সংসার।
সম্পাদকের নোট: গ্রামবাংলার এমন হারিয়ে যাওয়া শিল্পগুলিকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি সহযোগিতা এবং সঠিক বিপণন ব্যবস্থা। কালিন্দী পাড়ার এই শিল্পীরা আমাদের শেখান কীভাবে ঐতিহ্যের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয়।