২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মাস কয়েক আগে ঘর গোছাতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভা ও গত বিধানসভা ভোটে পুরাতন মালদা পুরসভা এলাকায় দলের আশানুরূপ ফল না হওয়ায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল ঘাসফুল শিবির। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পুরাতন মালদা পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল কাউন্সিলর বিভূতি ঘোষ।
নেপথ্যে ভোটের হিসাব: গত ২৫ নভেম্বর পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন কার্তিক ঘোষ। দলীয় সূত্রে খবর, শহর এলাকায় সংগঠনের হাল ফেরাতে এবং বিধানসভা ভোটে লিড নিশ্চিত করতেই এই পরিবর্তন। বুধবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পুরসভা চত্বরে আয়োজিত বৈঠকে জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী দলের নির্দেশ মতো বিভূতি ঘোষের নাম ঘোষণা করেন, যাকে সমর্থন জানান বাকি কাউন্সিলররাও।
বাজি ফাটানো নিয়ে বিতর্ক: বিভূতি ঘোষের নাম ঘোষণা হতেই পুরসভা চত্বরে শুরু হয় সমর্থকদের জয়োল্লাস ও বাজি ফাটানো। আর এতেই ক্ষোভ উগরে দেন বিদায়ী চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষ। তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “যাঁরা এখন বাজি ফাটাচ্ছেন, তাঁরা যেন বিধানসভা ভোটে নিজেদের ওয়ার্ডে ভালো ফল করার চেষ্টা করেন। তৃণমূল প্রার্থীকে জিতিয়ে তবেই বাজি ফাটানো মানায়।” তাঁর এই মন্তব্যে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও প্রকাশ্যে চলে এল।
অভিজ্ঞতায় ভরসা দলের: শপথ নেওয়ার পর নতুন চেয়ারম্যান বিভূতি ঘোষ জানান, এর আগেও তিনি দু’বার এই দায়িত্ব সামলেছেন। তিনি বলেন, “সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে লক্ষ্য। আমরা একজোট হয়ে কাজ করলে আগামী বিধানসভায় এই পুরসভা এলাকা থেকে দলকে বড় লিড দেওয়া সম্ভব।”
এদিকে, দলীয় বৈঠকে থাকলেও সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগেই বেরিয়ে যান ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বৈশিষ্ট্য ত্রিবেদী। তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য— “যা বলার জনসাধারণ বলবেন,” বুঝিয়ে দিচ্ছে যে চেয়ারম্যান বদল হলেও দলের ভেতরে সব কাউন্সিলর এখনও একসুরে কথা বলছেন না।
সম্পাদকের বিশ্লেষণ: পুরাতন মালদায় এই রদবদল কি তৃণমূলের ভোটের পালে হাওয়া কাড়তে পারবে? না কি কার্তিক বনাম বিভূতি গোষ্ঠীর লড়াই বিধানসভায় হিতে বিপরীত হবে, এখন সেটাই দেখার।