মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সদ্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের উদ্যোগে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান ঘিরে আজ সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ দূর-দূরান্তের জেলা থেকে সাধারণ মানুষ ইট মাথায় করে জাতীয় সড়ক ১২ (NH-12)-এর পাশে এসে জড়ো হয়েছেন। কিন্তু এই ব্যাপক আয়োজনের মূল প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে: মসজিদ নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জমি কি পাবেন হুমায়ুন কবীর?
দেড় কাঠা জমিতে ভিত্তিপ্রস্তর!
আজকের অনুষ্ঠানটি ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে একফালি জমিতে হচ্ছে, যার আয়তন মেরেকেটে দেড় থেকে দু’কাঠা। হুমায়ুন কবীর বাবরি মসজিদকে ঘিরে স্কুল, হাসপাতাল সহ যে বিশাল পরিকল্পনার কথা বলেছেন, তার জন্য কয়েক বিঘা জমি প্রয়োজন। এই জমি পাওয়া নিয়েই প্রথম থেকেই প্রশ্ন উঠছে।
প্রথম জমির মালিকের আপত্তি
কয়েকদিন আগেই নিজামুদ্দিন চৌধুরী নামে এক জমির মালিক তাঁর জমি ঘিরে দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “বাবরি মসজিদ একটা বিতর্কিত ইস্যু। সেই আবেগ নিয়ে কেন খেলতে চাইছেন? এটা ছ’ বিঘা জায়গা। এই জায়গার মালিক আমি। কাউকে জায়গা বিক্রি করিনি।”
দ্বিতীয় জমির মালিকের সিদ্ধান্ত: আবেগের কাছে হার!
আজ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে আরও এক কৃষককে পাওয়া গেল, মোহিত শেখ। যে জমিতে অনুষ্ঠান হচ্ছে, তার আল সংলগ্ন ১৫ কাঠা জমির মালিক মোহিত শেখের পরিবার (৫ ভাই-বোন)। মোহিত শেখের জমিতে আগে বেড়া দেওয়া থাকলেও, মানুষের আবেগ দেখে তিনি তা খুলে দিয়েছেন।
জমির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মোহিত শেখ বলেন,
“আমরা চাষাবাদ করে খাই। এই একটাই জমি রয়েছে। জমি বিক্রি কিংবা দান করিনি।”
তিনি জমি বিক্রির কোনও প্রস্তাব পাননি। তবে প্রস্তাব পেলে ভবিষ্যতে ভেবে দেখবেন বলে জানিয়েছেন। অর্থাৎ, বর্তমান জমায়েতের ভিড় ও আবেগ দেখে সাময়িকভাবে জমি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হলেও, মসজিদ নির্মাণের জন্য এখনও জমিটি কেনা বা দান করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, হাজার হাজার মানুষের জমায়েত হলেও, মসজিদ নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জমি না পাওয়ায় হুমায়ুন কবীরের স্বপ্নের প্রকল্পে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন রইল। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন কবীর শুধু বলেন, “যাঁরা এসব বলছেন, তাঁরা ভবিষ্যতে উত্তর পেয়ে যাবেন।”