তামিলনাড়ুর নামাক্কাল এলাকার প্রাচীন সাবান পাথর (Soapstone) বা শিলখড়ি শিল্প সম্প্রতি জিআই (Geographical Indication) ট্যাগ পেয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। জিআই ট্যাগ পাওয়ার ফলে এই অনন্য শিল্পকর্মের চাহিদা বহুগুণে বাড়লেও, শিল্পীরা এখন চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কাঁচামালের অভাবে এই শিল্প আগামী দিনে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
কেন এত চাহিদা?
সাবান পাথর এমন এক বিশেষ ধরনের পাথর, যা স্পর্শ করলে সাবানের মতো অত্যন্ত মোলায়েম অনুভূত হয়। এই পাথর দিয়ে তৈরি বাসনপত্র রান্নার জন্য দারুণ কার্যকর। মূলত নামাক্কাল এলাকার আশপাশেই এই পাথর পাওয়া যায়।
সংকট কাঁচামাল নিয়ে
যেখানে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্পীদের মুখে হাসি ফোটার কথা, সেখানে ঠিক উল্টো চিত্র। শিল্পীরা গভীর চিন্তায় রয়েছেন, কারণ—
-
সংকট: দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকার্যে ব্যবহার হওয়ার ফলে সহজলভ্য সাবান পাথর অনেকটাই কমে গেছে।
-
খননে নিষেধাজ্ঞা: বর্তমানে যে পাথর রয়েছে, তা মাটির অনেকটা নিচে এবং আশপাশের গভীর জঙ্গলে। কিন্তু সমস্যা হলো, সেখানকার জঙ্গলে কোনো ধরনের খননকার্য নিষিদ্ধ।
-
ফলস্বরূপ: জঙ্গল থেকে সাবান পাথর সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। কাঁচামালের অভাব হওয়ায় শিল্পটি বাঁচানো মুশকিল বলে মনে করছেন শিল্পীরা।
শিল্পীদের অভিমত, পাথর পেলে তবেই শিল্প সৃষ্টি হবে। কাঁচামাল না থাকলে জিআই ট্যাগের কোনো মানে থাকে না। তাঁরা যাতে এই প্রাচীন শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে পারেন, সেজন্য তাঁরা দ্রুত প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় রূপরেখা তৈরির আবেদন জানাচ্ছেন।