পূর্ব কলকাতার (East Kolkata Wetlands) জলাভূমি এলাকায় ‘অবৈধ নির্মাণ’ নিয়ে এবার কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিনহা অবৈধ নির্মাণ ভাঙার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং একই সাথে বেআইনি নির্মাণের তালিকা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
কী নির্দেশ দিল হাইকোর্ট?
অবৈধ নির্মাণ ভাঙুন: ইতিমধ্যেই যে বেআইনি নির্মাণগুলি হয়ে গিয়েছে, সেগুলি ভাঙার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে।
ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ: পূর্ব কলকাতা ওয়েটল্যান্ডস ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এলাকায় যত বেআইনি নির্মাণ হয়েছে, সেগুলির দাগ ও প্লট নম্বর-সহ চিহ্নিত করে দ্রুত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
নিষেধাজ্ঞা: আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, বেআইনি নির্মাণের যেন রেজিস্ট্রেশন না হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ (CESC ও বিদ্যুৎ পরিষদ) যেন কোনও অবস্থাতেই না দেওয়া হয়।
আদালত জানিয়েছে, একটি চক্রের মাধ্যমে এলাকায় যে জমি ও বাড়ি বিক্রির চেষ্টা চলছে, সেইগুলির মধ্যে কোনগুলি অবৈধ—তালিকা প্রকাশিত হলে সাধারণ মানুষ তা দ্রুত জানতে পারবেন। ফলে প্রতারণা ও জালিয়াতির ফাঁদে পা দেওয়ার আগে ক্রেতারা সতর্ক হতে পারবেন।
রাজ্য সরকারের রিপোর্টে ‘ব্যাপক হারে’ বেআইনি নির্মাণের চিত্র সামনে আসতেই হাইকোর্ট এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল। পুরসভাকে যেখানে এই ব্যাপক নির্মাণ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে জলাভূমি রক্ষায় আদালতের এই ফরমান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।