আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূম জেলার নানুর এলাকা। শুক্রবার সন্ধ্যার পর নানুর থানার অন্তর্গত পাতি সারা গ্রামে তৃণমূলের বুথ সভাপতিকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় আরও তিন জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এলাকায় চরম উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশের বিশাল বাহিনী।
খুনের বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের নাম রাসবিহারী সর্দার, যিনি এলাকার তৃণমূলের বুথ সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
ঘটনা: অভিযোগ, শুক্রবার সন্ধ্যায় কাজ সেরে বাড়ি ফেরার সময় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী লাঠি, বাঁশ এবং লোহার রড নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। রাসবিহারীর সঙ্গে থাকা বাকিরাও আক্রান্ত হন।
পরিণতি: ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাসবিহারী সর্দারের।
আহতরা: গুরুতর আহত অবস্থায় বাকি তিনজনকে দ্রুত উদ্ধার করে মঙ্গলকোট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাসবিহারী সর্দারের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য একই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
চাঁদা তোলা নিয়ে বিবাদ, না অন্য কারণ?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাসবিহারী এলাকায় অন্নপূর্ণা পূজার জন্য চাঁদা তুলছিলেন। সেই সময় গ্রামের কয়েকজন চাঁদা দিতে অস্বীকার করে এবং লাঠি, বাঁশ নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়।
পরিবারের অভিযোগ: মৃতের ছেলে সরাসরি অভিযোগ করেছেন, “নবান্নের জন্য চাঁদা তুলছিল। সেই নিয়েই ঝামেলা। তৃণমূল নেতার ছেলেরাই মেরেছে। সব পাড়ার ছেলে।” এই অভিযোগের কারণে ঘটনাটি অভ্যন্তরীণ বিবাদের দিকে ইঙ্গিত করছে।
তদন্তের অভিমুখ: তদন্তকারীরা এখন কোনো অভ্যন্তরীণ বিবাদ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার দিকে নজর রাখছেন।
পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় এক জনকেই আটক করেছে এবং বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। এই ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।