দিনের পর দিন ফুটপাথে জীবন কাটানো, মাথা গোঁজার ঠাঁইহীন এবং অবহেলিত মানুষরা অবশেষে নতুন জীবনের দিশা পেয়েছেন। এই ভূমিহীন ও ভবঘুরে মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়, পেট ভরে তিনবেলা খাবার ও বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে বর্ধমান পৌরসভা।
প্রায় দু-কোটি টাকা ব্যয়ে বর্ধমান পৌরসভার তত্ত্বাবধানে গুডশেড রোড এলাকায় গড়ে উঠেছে অত্যাধুনিক তিনতলা আবাসন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভালো বাসা’ (ভালো থাকার জায়গা)। এই ‘ভালো বাসা’য় ইতিমধ্যেই প্রায় ২০ জন ভবঘুরে, ভূমিহীন ও আপনজনহীন মানুষ আশ্রয় পেয়েছেন। মোট ৫০ জন মানুষের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে পৌরসভা।
এখানে নেই কোনো অবজ্ঞা বা অবহেলা, শুধু রয়েছে নিরাপদ আশ্রয়। ম্যানেজার উত্তম ঘোষ জানান, এই আবাসনে সকালের জলখাবার থেকে শুরু করে দুপুর ও রাতের খাবার—সবই আসছে ‘মা ক্যান্টিন’-এর মাধ্যমে। সকালে এবং বিকেলে মিলছে গরম চা।
শুধুমাত্র থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাই নয়, আবাসিকদের স্বাস্থ্যসেবার দিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। উত্তম ঘোষ জানান, “প্রতি মাসে একজন এমবিবিএস চিকিৎসক এখানে আসেন এবং আবাসিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। প্রয়োজনমতো ওষুধও তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।”
‘ভালো বাসা’য় কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আবাসিকরা চাইলে নিজেদের মতো কাজ করতে পারেন এবং সারাদিন কাজের শেষে আবার এই নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসতে পারেন।
অভুক্ত থাকা, বৃষ্টিতে ভেজা বা শীতে কষ্ট পাওয়ার সেই দিনগুলি আজ অতীত। বর্ধমান পৌরসভার এই উদ্যোগের ফলে ভূমিহীন মানুষরা শুধু আশ্রয়ই পাননি, ফিরে পেয়েছেন সম্মান, যত্ন এবং বেঁচে থাকার এক নতুন প্রেরণা।