ধনিয়া (Coriander) শুধু রান্নার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণই নয়, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। এতে ক্যালসিয়াম, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, বি-ক্যারোটিনয়েডস এবং পলিফেনলসের মতো বহু পুষ্টি উপাদান ও ভেষজ গুণ রয়েছে। আয়ুর্বেদেও এর কার্যকারিতা উল্লেখ আছে। ধনে বীজ ও পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি (Anti-inflammatory) এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল (Anti-bacterial) বৈশিষ্ট্য।
ধনিয়ার উপকারিতা:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধনিয়ার পুষ্টিগুণ:
-
শরীরে ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায়।
-
হজমক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
-
কিডনি সুস্থ রাখতে, ইমিউনিটি বৃদ্ধিতে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে এবং রক্তস্রাবের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
করোনাকালে ভারতের আয়ুষমন্ত্রকও পরামর্শ দিয়েছিল যে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের অংশ হিসেবে হালকা গরম জল ধনিয়া গুঁড়া দিয়ে বা আস্ত ধনিয়া ভেজানো জল চায়ের মতো পান করা উচিত।
ধনিয়ার পানীয় তৈরির পদ্ধতি:
-
প্রায় ১০ গ্রাম ধনিয়া বীজ (Coriander Seeds) হালকা থেঁতো করে নিন।
-
এই ধনিয়া ২ লিটার জলে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন।
-
সকালে চামচ দিয়ে গুলিয়ে তারপর জল ছেঁকে নিন।
-
এই পানীয়টি সারাদিন ধরেই একটু একটু করে পান করুন।
ধনিয়া ভেজানো জল পানের উপকারিতা:
-
দ্রুত ওজন হ্রাস: নিয়মিত সকালে খালি পেটে এই জল পান করলে দ্রুত ওজন কমবে।
-
কিডনি পরিষ্কার: নিয়মিত পান করলে কিডনি পরিষ্কার থাকে এবং বিভিন্ন কিডনির রোগ থেকে মুক্তি মেলে।
-
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: যাদের শরীর সবসময় গরম থাকে, এই জল পান করলে শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমে সুফল মিলবে।
-
শরীর ডিটক্সিফিকেশন: এই জল পান করলে শরীর ডিটক্স হয় এবং টক্সিন বের হয়ে যায়। এ কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
-
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: এই পানীয় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ কার্যকরী। ডায়াবেটিসে ভোগা রোগীরা নিয়মিত এটি পান করতে পারেন।
-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: এই জলে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র্যাডিকাল কমাতে সাহায্য করে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হয় এবং বিভিন্ন সংক্রমণের হাত থেকে মুক্তি মেলে।
-
হজমশক্তি বৃদ্ধি: এর পুষ্টিগুণ পাচনতন্ত্র সুস্থ রাখার মাধ্যমে হজমশক্তি বাড়ায়।
-
চুল মজবুত: এই জল পান করলে চুল আরও মজবুত হয়। এতে থাকা ভিটামিন এ, সি এবং কে চুলের আগা ফাটা ও ভেঙে যাওয়া রোধ করে চুলকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
-
আর্থ্রাইটিসের উপশম: আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় যারা ভুগছেন, তাদের জন্য এটি সেরা ঘরোয়া দাওয়াই। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানসমূহ আর্থ্রাইটিসের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।