বাসি রুটিকে কেন অশুভ মনে করে হিন্দু ধর্ম? জেনে নিন শাস্ত্রে কেন বাসি আটা ব্যবহার নিষিদ্ধ

হিন্দু ধর্মে রান্নাঘরকে বাড়ির সবচেয়ে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে দেবী অন্নপূর্ণা বাস করেন। তাঁর আশীর্বাদেই ঘরে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। তাই রান্নাঘরে খাবার তৈরির সময় পবিত্রতা ও সতেজতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাস্ত্রে বাসি রুটি বা রাতে মেখে রাখা আটা ব্যবহার করাকে অশুভ বলে গণ্য করা হয়। কিন্তু এর কারণ কী?

বাসি আটা কেন তামসিক?

রাতে মেখে রাখা আটা সকালে বাসি হয়ে যায় এবং তাতে গাঁজন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শাস্ত্র মতে, এই বাসি ময়দা তামসিক গুণযুক্ত হয়। বাসি আটা দিয়ে তৈরি রুটি খেলে শরীরে:

  • ভারী ভাব ও অলসতা বাড়ে।

  • বিরক্তি ও রাগ বৃদ্ধি পায়।

  • নেতিবাচক শক্তি বাড়ে।

বিশ্বাস করা হয়, বাসি আটা দিয়ে রুটি তৈরি করলে দেবী অন্নপূর্ণা ক্রোধান্বিত হন, যার ফলে রান্নাঘরে ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ কমে যায়।

রুটির সঙ্গে গ্রহের সম্পর্ক: সূর্য, মঙ্গল ও রাহু

জ্যোতিষশাস্ত্রে, রুটিকে গ্রহের রাজা সূর্য এবং সাহস ও শক্তির কারক মঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর কারণ হলো—রুটি শরীরকে শক্তি, ক্ষমতা এবং প্রাণশক্তি সরবরাহ করে।

  • সূর্য ও মঙ্গল (তাজা আটা): সূর্য জীবন ও শক্তির প্রতীক। মঙ্গল সাহস ও শক্তির প্রতীক। তাই তাজা ময়দা দিয়ে তৈরি রুটি শরীরকে সুষম রাখে এবং ইতিবাচক শক্তি প্রদান করে।

  • রাহু (বাসি আটা): জ্যোতিষশাস্ত্রে বাসি ময়দা রাহুর সঙ্গে সম্পর্কিত, যাকে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, মানসিক বিভ্রান্তি এবং নেতিবাচক চিন্তার কারক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ধর্মগ্রন্থে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা

‘ধর্মসিন্ধু’, ‘নির্ণয়সিন্ধু’ এবং ‘স্মৃতি’ গ্রন্থে বাসি খাবার সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে:

“রাত্রৌ সন্ধ্যা সমায়ে চ য়াত ভুক্তম তাত বাসি ভবতি”

এই শ্লোকের অর্থ হলো: রাতে রাখা খাবার সকালের মধ্যে বাসি হয়ে যায়। তাই ধর্মগ্রন্থে এই খাবার ব্যবহার করা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। এই কারণে, সুস্থ ও সমৃদ্ধ জীবনের জন্য প্রতিদিন তাজা আটা মেখে রুটি তৈরি করাই বিধান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy