হাত-পায়ে ঝিঁঝি ধরা: কারণ, উপসর্গ ও কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

হঠাৎ করে হাত বা পা অসাড় হয়ে যাওয়া এবং অসংখ্য সূঁচ ফোটানোর মতো অনুভূতি – এই সমস্যাকে আমরা সচরাচর ঝিঁঝি ধরা বলে থাকি। কেতাবি ভাষায় এটি ‘টেম্পরারি প্যারেসথেসিয়া’ নামে পরিচিত, আর ইংরেজিতে একে ‘পিনস অ্যান্ড নিডলস’ বলা হয়। সাধারণত কিছুক্ষণের মধ্যেই এই অস্বস্তিকর অনুভূতি চলে যায় এবং সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসে। কিন্তু কেন হয় এমনটা, এবং কখন এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে?
কেন হয় ঝিঁঝি?
আমাদের শরীরে অসংখ্য স্নায়ু জালিকার মতো ছড়িয়ে রয়েছে, যা মস্তিষ্ক এবং দেহের অন্যান্য অংশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করে। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন আমরা দীর্ঘক্ষণ ধরে বসা বা শোয়ার সময় কোনো একটি হাত বা পায়ের উপর এমনভাবে চাপ সৃষ্টি করি, তখন সেখানকার স্নায়ু এবং রক্ত চলাচলকারী শিরার উপরও চাপ পড়ে। এর ফলে ওই অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় এবং স্নায়ুগুলো অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। একইসাথে, স্নায়ু থেকে মস্তিষ্কে তথ্য প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়।
যখন এই চাপ অপসারিত হয়, তখন একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে রক্ত ওই অংশে প্রবাহিত হয় এবং স্নায়ুগুলো আবার সক্রিয় হয়ে মস্তিষ্কে তথ্য পাঠানো শুরু করে। এই হঠাৎ করে রক্ত সরবরাহ এবং স্নায়ু সক্রিয় হওয়ার ফলেই ঝিঁঝি ধরার অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি হয়।
যেভাবে ঝিঁঝি ধরতে পারে
সাধারণত হাত-পায়ে ঝিঁঝি ধরার ঘটনাই বেশি দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে পা মুড়ে বসা, হাতের উপর ভর দিয়ে শোয়া বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে থাকার কারণে এমনটা হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই ঝিঁঝি ধরা সাময়িক হয় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়।
তবে, কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় ধরে ঝিঁঝি ধরার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে, যা কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদিও সাময়িক ঝিঁঝি ধরা কোনো গুরুতর সমস্যা নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি অন্তর্নিহিত কোনো রোগের লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন:
যদি দীর্ঘসময় ধরে ঝিঁঝি ধরার উপসর্গ থাকে এবং তা সহজে না সারে।
যদি নিয়মিতভাবে বা বারবার একই অঙ্গে ঝিঁঝি ধরার ঘটনা ঘটে।
উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে যদি দীর্ঘসময় ধরে কোনো অঙ্গে অসাড়তা অনুভব হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।