সাবধান! অতিরিক্ত হেডফোন ব্যবহারে মস্তিষ্কের বিপদ, বধিরতার ঝুঁকিও

আধুনিক জীবনে গান শোনা বা বিভিন্ন অডিও শোনার জন্য হেডফোনের ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। তবে এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। কানের সঙ্গে সরাসরি মস্তিষ্কের যোগ থাকার কারণে হেডফোন থেকে নির্গত ইলেক্ট্রম্যাগনেটিক তরঙ্গ মস্তিষ্কের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হতে পারে। চিকিৎসকরা এমনটাই সতর্ক করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মাঝে কানে ভোঁ ভোঁ আওয়াজ হওয়া এবং ঘন ঘন মাথা ব্যথা করা মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর লক্ষণ। দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহারের ফলে অনেকেই কানের ব্যথায়ও ভোগেন। এর প্রধান কারণ হল হেডফোন সরাসরি কানের মধ্যে শব্দ প্রেরণ করে। উচ্চ মাত্রার আওয়াজ সরাসরি কানে গেলে শ্রবণশক্তির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, এমনকি বধির হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিস হলেও ইয়ারফোন অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিলে কানে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। অন্য কোনো ব্যক্তির কান থেকে ব্যাকটেরিয়া খুব সহজেই হেডফোনের মাধ্যমে আপনার কানে প্রবেশ করতে পারে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
অধিকাংশ হেডফোনই এয়ার-টাইট হওয়ার কারণে ব্যবহারের সময় কানে বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। এই কারণে কানের অভ্যন্তরে আর্দ্রতা বজায় থাকে যা ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য জীবাণুর বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
সম্প্রতি একটি গবেষণায় উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ ভলিউমে গান শোনার অভ্যাস শ্রবণশক্তির উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। দেখা গেছে, একটানা ১৫ মিনিট ১০০ ডেসিবেলের বেশি মাত্রায় গান শুনলে বধির হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এমনকি হেডফোন খোলার পরেও কিছুক্ষণ ভালোভাবে কানে শুনতে অসুবিধা হতে পারে।
অতএব, গান শোনা বা অডিও শোনার সময় আমাদের সচেতন থাকতে হবে। অতিরিক্ত হেডফোন ব্যবহার পরিহার করা, অন্যের হেডফোন ব্যবহার না করা এবং কম ভলিউমে শোনা জরুরি। নিজের শ্রবণশক্তি এবং মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত রাখতে হেডফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।