সরাসরি গাছ থেকে অ্যালোভেরা জেল মাখছেন? অজান্তেই ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করছেন না তো!

ত্বকের পরিচর্যা থেকে শুরু করে চুলের যত্ন— সবক্ষেত্রেই অ্যালোভেরা জেলের জুড়ি মেলা ভার। সবচেয়ে বড় কথা, বাড়িতে খুব সহজেই এই গাছ পাওয়া যায় বলে এর ব্যবহারও বেশ জনপ্রিয়। তবে ত্বকের উপকারের আশায় যদি আপনি সরাসরি গাছ থেকে পাতা কেটে সেই জেল মুখে বা চুলে লাগাতে শুরু করেন, তবে তা উপকারের চেয়ে বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। সামান্য একটি ভুল অভ্যাসের কারণে সুন্দর ত্বক ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বেশিরভাগ মানুষই গাছ থেকে অ্যালোভেরা পাতা ছিঁড়ে, তা ভালোভাবে ধুয়ে ভেতরের জেল সরাসরি চুলে বা ত্বকে লাগিয়ে নেন। এখানেই ঘটে মূল ভুলটি। অ্যালোভেরা পাতা কাটলে তা থেকে ‘অ্যালোইন’ বা ‘অ্যালো ল্যাটেক্স’ নামক একটি হালকা হলুদ রঙের আঠালো পদার্থ বের হয়। এই পদার্থটি ত্বকের সংস্পর্শে এলে মারাত্মক অ্যালার্জি, জ্বালাপোড়া বা চুলকানির সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি ভুলবশত এটি পেটে চলে গেলে ডায়রিয়া, বমি, বমি ভাব এবং পেটে তীব্র ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অ্যালোভেরা ব্যবহারের সঠিক উপায় কী? গাছ থেকে অ্যালোভেরা পাতা ছিঁড়ে প্রথমে তা ভালোভাবে ধুয়ে একটি পাত্রে খাড়া করে রাখুন, যাতে ভেতরের হলুদ আঠা বা ল্যাটেক্স ধীরে ধীরে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সমস্ত হলুদ আঠা ঝরে গেলে পাতাটি জল দিয়ে আরও একবার ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর ভেতরের পরিষ্কার ও স্বচ্ছ জেলটি নিরাপদে ব্যবহার করতে পারেন।
উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক কাল থেকেই রূপচর্চায় অ্যালোভেরার ব্যবহার চলে আসছে। প্রাচীন মিশরীয় রানি নেফারতিতি ও ক্লিওপেট্রা থেকে শুরু করে ভারত, মেক্সিকো ও চীনের মানুষ নিয়মিত এটি ব্যবহার করতেন। এতে প্রায় ৭৫টি সক্রিয় যৌগ, ভিটামিন, এনজাইম, খনিজ পদার্থ এবং অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে ত্বক ও স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী।