সন্তান পড়ায় অমনোযোগী? এই ৭ কৌশলেই হবে কেল্লা ফতে!

প্রত্যেক বাবা-মায়েরই স্বপ্ন থাকে তাদের সন্তান পড়াশোনায় মনোযোগী হোক এবং সুশিক্ষিত হিসেবে গড়ে উঠুক। তবে অনেক সময় দেখা যায় ছোট ছেলে-মেয়েরা বাবা-মায়ের কথা শুনতে চায় না এবং পড়াশোনাতেও তেমন মনোযোগ দেয় না।
এই সমস্ত সমস্যার সমাধানে আপনি নিচের কয়েকটি কার্যকরী কৌশল অনুসরণ করতে পারেন:
১. পড়ার সময় সন্তানের পাশে থাকুন:
সন্তান কিছুটা বড় না হওয়া পর্যন্ত যখন সে পড়তে বসে, তখন তার সামনে থাকুন। এমন একটি সময় তার পড়ার জন্য নির্ধারণ করুন, যখন আপনিও অফিস থেকে ফিরে বাড়িতে থাকতে পারবেন। সামনে থাকলে তার কোথায় ঘাটতি হচ্ছে, তা সহজে বোঝা যাবে এবং আপনি তাকে সঠিক guidance দিতে পারবেন।
২. ছবি ও ব্লকের ব্যবহার:
ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে পড়ার বিষয়বস্তুকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ছবি ও ব্লকের সাহায্য নিন। পড়ার বিষয়টা ছবি এঁকে অথবা প্রয়োজনে আলাদা আলাদা রং ব্যবহার করে বোঝান। পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভিজ্যুয়াল বা চাক্ষুষ কোনো দৃশ্য খুব কার্যকর ভূমিকা রাখে। ইতিহাস বা নাটক বোঝাতে সেই ঘটনার উপর নির্মিত কোনো নাটক বা সিনেমার দৃশ্যও দেখাতে পারেন। এতে বিষয়বস্তু সহজে মনে থাকবে। তবে সাহিত্য নির্ভর বিষয়ের ক্ষেত্রে বুঝে শুনে চিত্রায়ণ দেখাবেন।
৩. সন্তানকে শেখানো বিষয় বোঝাতে বলুন:
আপনার সন্তান যা পড়ছে, সেটি আপনাকে পাল্টা বোঝাতে বলুন। যদি সে সাবলীলভাবে বোঝাতে সক্ষম হয়, তাহলে বুঝবেন পড়া বুঝতে বা মনে রাখতে তার আর কোনো সমস্যা নেই। এটি তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করবে।
৪. লেখার অভ্যাস তৈরি করুন:
পড়া ভালোভাবে মনে রাখার জন্য একবার হলেও বিষয়বস্তুটি লিখে ফেলতে বলুন। লিখে ফেললে তথ্যগুলো মস্তিষ্কে আরও ভালোভাবে গেঁথে যায় এবং দীর্ঘ সময় মনে থাকে।
৫. গল্পচ্ছলে শিক্ষাদান:
ইতিহাস বা সাহিত্যের মতো বিষয়গুলোকে সন্তানের কাছে গল্পের মতো করে তুলে ধরুন। মনে রাখা যায় এমন কিছু কৌশল অবলম্বন করুন। যেমন, গুরুত্বপূর্ণ সাল-তারিখ বা কঠিন বানান, রসায়নের পর্যায় সারণী—এসব মনে রাখার সহজ কিছু কৌশলগত ফর্মুলা রয়েছে। প্রয়োজনে ইন্টারনেট থেকেও সেইসব কৌশল জেনে নিতে পারেন।
৬. বিরতি দিন, মনোযোগ ধরে রাখুন:
যদি দেখেন আপনার শিশু একাগ্র হতে পারছে না, তাহলে তাকে একটানা পড়াবেন না। এর ফলে সন্তানের মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে। বরং পড়ার মাঝে মাঝে তার পছন্দের ছোট কোনো কাজ করতে দিন। এতে সে আনন্দ পাবে এবং মন ভালো রেখে পড়লে মনে রাখতেও সুবিধা হবে।
৭. লোভ দেখিয়ে পড়ানো বন্ধ করুন:
ছোটবেলা থেকেই ‘পড়া পারলে এই কিনে দেব, ওই কিনে দেব’—এই ধরনের লোভ দেখানো বন্ধ করুন। এতে সন্তানের মনোযোগ তো বাড়েই না, উল্টে তার মধ্যে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি দায়বদ্ধতা তৈরি হয় না। যা কিছু সে করে, তা কেবল পুরস্কারের লোভে করে। তাই পড়াকে একটি আনন্দের প্রক্রিয়া হিসেবে তার কাছে তুলে ধরুন।
এই কৌশলগুলো অবলম্বন করে আপনি আপনার সন্তানকে পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী করে তুলতে পারেন এবং তার শিক্ষাজীবনকে আরও আনন্দময় করে তুলতে পারেন।