সন্তানের স্ক্রিন টাইম কি বিপদ ডেকে আনছে? অভিভাবক হিসেবে এখনই সতর্ক হন!

বর্তমান ডিজিটাল যুগে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের স্ক্রিনে কাটানো সময় নিয়ে মা-বাবারা চরম দুশ্চিন্তায়। মনোবিজ্ঞানী সিন্ধু ইউ ওয়াধওয়ার মতে, স্ক্রিন টাইমের ক্ষেত্রে শুধু ঘণ্টার হিসেব নয়, বরং বিষয়বস্তুর মান ও শিশুর দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা জরুরি। পড়াশোনা বা সৃজনশীল কাজের জন্য ডিভাইসের ব্যবহার ইতিবাচক হলেও, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুর ঘুম, শারীরিক সক্রিয়তা ও সামাজিক বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ক্রমাগত দ্রুতগতির কনটেন্ট দেখার ফলে শিশুদের ধৈর্যের অভাব ঘটছে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাচ্ছে। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার শিশুদের মধ্যে বিরক্তি, হতাশা ও উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে রাতে দেরি পর্যন্ত স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, যা মেজাজ ও কর্মশক্তির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। এছাড়া সরাসরি সামাজিক মিথস্ক্রিয়া ও খেলাধুলার অভাব শিশুর আত্মবিশ্বাস ও ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বিকাশে বাধা দেয়।

সন্তানের আচরণে যদি ডিভাইস ব্যবহারের কারণে পড়াশোনায় অবনতি, ঘুমের সমস্যা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বা অকারণে মেজাজ হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ না করে পরিবারে ভারসাম্য বজায় রাখুন। খাবারের টেবিল ও ঘুমানোর আগে স্ক্রিন-মুক্ত সময় নির্ধারণ করুন এবং নিয়মিত বাইরে খেলাধুলায় উৎসাহিত করুন। মনে রাখবেন, সন্তানরা আপনাদের দেখে শেখে, তাই তাদের আদর্শ ডিজিটাল অভ্যাসের পাঠ দিতে বাবা-মাকেও নিজেদের স্ক্রিন ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে।