শিশুর কান্না, শুধু ক্ষুধা বা আঘাত নয়, বুঝুন নেপথ্যের আরও কারণ!

নতুন বাবা-মায়েদের জন্য শিশুর কান্না প্রায়শই এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শিশুরা কেবল ক্ষুধার্ত বা আঘাত পেলেই কাঁদে না; তাদের কান্নার পেছনে থাকতে পারে আরও অনেক কারণ যা অনেক সময় অভিভাবকরা বুঝতে পারেন না। শিশুর অঙ্গভঙ্গি এবং কান্নার ধরণ দেখে শারীরিক সমস্যা বা অস্বস্তি বোঝা নতুন অভিভাবকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সাধারণত, শিশুরা যখন কোনো শারীরিক সমস্যা বা বিরক্তিবোধ করে, তখনই অনবরত কেঁদে ওঠে। অনেক চেষ্টা করেও যখন শিশুকে থামানো যায় না, তখন বুঝতে হবে সে শারীরিকভাবে কোনো কষ্ট পাচ্ছে। শিশুর কান্নার কারণ বোঝার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো:
শিশুর কান্নার কারণ বোঝার কিছু কৌশল:
ক্ষুধা: শিশুদের ঘন ঘন খিদে পায়। তাই শিশু কান্না করলে প্রথমেই তাকে দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। অনেক সময় এটিই কান্নার প্রধান কারণ হয়ে থাকে।
ভেজা ডায়াপার: দুধ খাওয়ানোর পরেও যদি শিশুর কান্না না থামে, তবে তার ডায়াপার পরীক্ষা করুন। ভেজা বা নোংরা ডায়াপারের কারণে শিশু অস্বস্তি বোধ করতে পারে এবং কাঁদতে পারে। দীর্ঘক্ষণ ভেজা ডায়াপার পরানো থাকলে শিশুর র্যাশ বা চুলকানিও হতে পারে।
পেটে গ্যাস বা ব্যথা: খাওয়ানোর পর অনেক শিশুর পেটে গ্যাস জমে ব্যথা হতে পারে। এতে শিশু অস্থির হয়ে ওঠে এবং খুব কান্নাকাটি করে। শিশুর পেটে হাত দিয়ে আলতো চাপ দিয়ে দেখুন, যদি শক্ত মনে হয় বা কান্নার সাথে পা উপর দিকে তুলে নেয়, তাহলে বুঝতে হবে পেটে গ্যাস হয়েছে।
ঢেকুর না ওঠা: খাওয়ার পরপরই শিশু কান্না শুরু করলে বুঝতে হবে তার অস্বস্তি হচ্ছে। এক্ষেত্রে তাকে ঢেকুর তোলানোর চেষ্টা করুন। ঢেকুর তোলার জন্য শিশুর পিঠে ধীরে ধীরে চাপড়ান এবং আলতো করে ঘষতে থাকুন। এতে পেটের গ্যাস বেরিয়ে এসে শিশু আরাম পাবে।
তাপমাত্রার তারতম্য: অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরমেও শিশু অস্বস্তি বোধ করে কাঁদতে পারে। তাই শিশুর পরিবেশের তাপমাত্রা ঠিক আছে কি না খেয়াল রাখুন। আবহাওয়া অনুযায়ী শিশুকে পোশাক পরান, যাতে সে আরামদাক থাকে।
অবস্থান পরিবর্তন: অনেক সময় শিশু দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকলে বা একঘেয়ে লাগলে কাঁদে। সে কোলে উঠতে চাইতে পারে বা অন্য কোনো অবস্থানে যেতে চাইতে পারে। তাই শিশুকে দীর্ঘসময় একভাবে শুইয়ে রাখবেন না।
ভয়: অপ্রত্যাশিত কোনো শব্দ বা ঘটনার কারণে শিশুরা ভয় পেয়ে জোরে চিৎকার করে কেঁদে উঠতে পারে। শিশুর আচমকা এমন কান্না শুনলে তার আশেপাশের পরিবেশ ভালোভাবে খতিয়ে দেখুন।
শারীরিক অসুস্থতা: যদি শিশু স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কান্নাকাটি করে, ঘুমাতে না চায় এবং সারাক্ষণ ছটফট করে, তবে তা কোনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঘুমের অভাব: ঘুমানোর আগেও শিশুরা কান্নাকাটি করতে পারে। যদি দেখেন শিশু বারবার চোখ কচলাচ্ছে বা তার চোখে ঘুম ঘুম ভাব রয়েছে, তখন সে কান্না করলেই ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করুন। ঘুমের অভাব শিশুদের মেজাজ খিটখিটে করে তোলে।