শরীরে প্রোটিনের অভাব? অবহেলা করবেন না, মারাত্মক বিপদ হতে পারে!

শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে প্রোটিনের গুরুত্ব অপরিসীম। নির্বিঘ্নে কাজ করতে চাইলে শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিনের জোগান থাকা অত্যাবশ্যক। প্রোটিন আমাদের শরীরে শক্তি যোগায়, কোষ পুনরুদ্ধার করে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এটি মূলত দীর্ঘ-চেইন অ্যামিনো অ্যাসিড দ্বারা গঠিত, যা পেশির বিল্ডিং ব্লক হিসেবে পরিচিত।

সাধারণত আমরা বিভিন্ন প্রোটিন জাতীয় খাবারের মাধ্যমে এই প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানটি গ্রহণ করি। তবে যখন শরীর তার চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন পায় না, তখনই শরীরে এর ঘাটতি দেখা দেয়। অনেকেই হয়তো এই ঘাটতির লক্ষণগুলি প্রথমে বুঝতে পারেন না। তবে কিছু সুস্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে যা প্রকাশ পেলে বোঝা যায় শরীরে প্রোটিনের অভাব রয়েছে।

অনেকেই এই লক্ষণগুলিকে সাধারণ ভেবে এড়িয়ে যান, তবে দীর্ঘমেয়াদী প্রোটিনের অভাব শরীরের জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে কী কী লক্ষণ প্রকাশ পায়-

প্রোটিনের অভাবের কিছু সুস্পষ্ট লক্ষণ:

ত্বক, চুল ও নখের পরিবর্তন: প্রোটিনের অভাব ত্বক, চুল ও নখের উপর স্পষ্ট প্রভাব ফেলে। কারণ এই তিনটি অঙ্গই মূলত প্রোটিন দিয়ে গঠিত। প্রোটিনের ঘাটতি হলে ত্বকে লালচে ভাব দেখা যেতে পারে, নখ ভঙ্গুর হয়ে যায়, চুল পাতলা হয়ে আসে এবং চুলের স্বাভাবিক রং বিবর্ণ হতে শুরু করে।

পেশি দুর্বলতা ও ক্ষয়: আমাদের শরীরের পেশিগুলির বেশিরভাগ অংশই প্রোটিন দ্বারা গঠিত। তাই শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে পেশি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে। এর ফলে শারীরিক কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং দুর্বলতা অনুভূত হয়।

হাড় ভাঙার ঝুঁকি বৃদ্ধি: প্রোটিন হাড়ের শক্তি ও ঘনত্ব বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ না করলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং সামান্য আঘাতেই ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি বাড়ে।

অতিরিক্ত ক্ষুধা ও ওজন বৃদ্ধি: পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করলে দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরা থাকে, ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ক্ষুধার পরিমাণও হ্রাস পায়। কিন্তু প্রোটিনের ঘাটতি হলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে এবং ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যায়, যা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি: শরীরে প্রোটিনের অভাব দেখা দিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। দুর্বল ইমিউন সিস্টেম শরীরে প্রবেশ করা বিভিন্ন জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না। ঘন ঘন সর্দি বা কাশিতে আক্রান্ত হওয়া প্রোটিনের অভাবের একটি লক্ষণ হতে পারে।

ফ্যাটি লিভার: শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দিলে ফ্যাটি লিভার বা লিভারের কোষে চর্বি জমতে শুরু করে। বর্তমানে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিনের সরবরাহ নিশ্চিত করা এই রোগ থেকে মুক্তির অন্যতম উপায়।

কোন কোন খাবারে প্রোটিন পাওয়া যায়?

প্রোটিন বিভিন্ন ধরনের খাবারে পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল – সামুদ্রিক খাবার, সয়া, ডিম, মটরশুঁটি, দুধ, পনির, দই, বাদাম, ওটস, মুরগির মাংস, ব্রোকলি, টুনা মাছ, কুইনো, মসুর ডাল, কুমড়ার বীজ, তিসি বীজ, সূর্যমুখী বীজ, মাছ, চিংড়ি, চিনাবাদাম এবং ব্রাসেল স্প্রাউট।

দীর্ঘদিন ধরে প্রোটিনের অভাবে ভুগলে শরীরে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন জাতীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৫০ থেকে ১৭৫ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। এরপরও যদি শারীরিক কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।