বিশ্বজুড়ে ঘুমজনিত সমস্যা (Sleep Disorder) এখন এক গুরুতর স্বাস্থ্য সংকট। একটি জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে সাত ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম জরুরি। কিন্তু অনেকেই জানেন না, রাতের খাবারের তালিকা বা স্ন্যাকস আমাদের ঘুমের মান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।
ঘুমের সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ভুল সময়ে ভুল খাবার খাওয়া। রাতে কিছু খাবার আছে যা আপনার হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, শরীরের তাপ বাড়ায় এবং হৃদস্পন্দনকে প্রভাবিত করে, ফলে গভীর ঘুম (Deep Sleep) আসা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
গভীর ঘুমের পথে বাধা সৃষ্টি করে যে খাবারগুলি, রাতে তা অবশ্যই এড়িয়ে চলুন:
১. চিপস, ভাজাপোড়া ও স্ন্যাকস: ভাজাপোড়া খাবারে প্রচুর পরিমাণে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট থাকে, যা ঘুম নষ্ট করতে পারে। একইভাবে চিপস বা ভুট্টা ভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস এড়িয়ে চলা উচিত। এই খাবারগুলি পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা তৈরি করে।
২. ফাইবার-সমৃদ্ধ শাক-সবজি: যদিও শাক-সবজি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তবে এতে প্রচুর ফাইবার থাকায় রাতে তা হজম হতে বেশি সময় নেয়। রাতের বেলায় হজম প্রক্রিয়া ধীর গতিতে চলার কারণে ফাইবারযুক্ত সবজি ঘুম আসতে বাধা দেয়।
৩. কফি, চকলেট ও মিষ্টিজাতীয় খাবার: মিষ্টি, আইসক্রিম, চকলেট বা ক্যান্ডিবারের মতো ফ্যাট ও চিনিযুক্ত খাবার ঘুমের আগে একদমই খাওয়া উচিত নয়। চকলেটে ক্যাফেইন ও ফ্যাট উভয়ই থাকে, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এছাড়া কর্নফ্লেক্সের মতো অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবারও রাতে পরিহার করা উচিত।
৪. রেড মিট: রাতে রেড মিট (Red Meat) হজম হতে অনেক সময় লাগে। মাংস প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরের বিপাক হার (BMR) এবং শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ঘুম গাঢ় হতে পারে না। রাতে হালকা খাবার গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. পাস্তা ও পিৎজা: পাস্তা বা পিৎজা উভয়ই ফ্যাটি গোত্রীয় খাবার। এগুলো রাতে খেলে দেহের ওজন বাড়ানোর পাশাপাশি ঘুমের সময় হৃদস্পন্দন অনিয়মিত করতে পারে। এছাড়া রিচ বা ঝাল মশলাযুক্ত খাবার পরিপাকতন্ত্রে অস্বস্তি সৃষ্টি করে, যা হজমের কাজ সারারাত ধরে চলার কারণে ঘুম ভালো হতে দেয় না।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস: ভালো ঘুমের জন্য ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করুন এবং তা যেন হয় হালকা ও সহজে হজমযোগ্য।