রক্ত গ্রুপ ‘এ’ হলে সাবধান! কম বয়সেই স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

বর্তমানে অল্প বয়সেই স্ট্রোকের শিকার হচ্ছেন বহু মানুষ। আকস্মিক স্ট্রোকের আঘাতে ঘটছে অপ্রত্যাশিত মৃত্যুও। কিন্তু কারা স্ট্রোকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ? রক্তের গ্রুপের সঙ্গে কি স্ট্রোকের কোনো সম্পর্ক আছে? এই বিষয়ে নতুন একটি গবেষণা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, যাদের রক্তের গ্রুপ ‘এ’ (A), তাদের কম বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অন্যদিকে, যাদের রক্তের গ্রুপ ‘ও’ (O), তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি সবচেয়ে কম বলে জানা গেছে।

গবেষকদের দাবি, ‘এ’ গ্রুপের রক্ত ધરાকারী ব্যক্তিদের অল্প বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এর বিপরীতে, ‘ও’ গ্রুপের রক্ত ધરાকারী ব্যক্তিদের অন্যদের তুলনায় প্রাথমিক পর্যায়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ১২ শতাংশ কম।

স্ট্রোক মূলত ঘটে যখন রক্তনালী দিয়ে মস্তিষ্কের সব অংশে সঠিকভাবে রক্ত পৌঁছাতে পারে না। এর প্রধান কারণ হলো রক্তনালী ফেটে গিয়ে রক্তক্ষরণ হওয়া অথবা মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ছোট রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধা।

এই সময় শরীরে বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কের কোন অংশে স্ট্রোক হয়েছে এবং রোগীকে কত দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তার উপর নির্ভর করে রোগীর শরীরে স্ট্রোকের প্রভাব কতটা গুরুতর হবে।

গবেষক স্টিভেন জে কিটনার এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা ইদানীংকালে অনেক বেশি হারে স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর ফলে অনেকেরই আকস্মিক মৃত্যু ঘটছে। যারা এই ধাক্কা সামলে উঠতে পারছেন, তাদের মধ্যেও অনেকের শারীরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় কমে যাচ্ছে এবং শরীরে এক ধরনের জড়তা আসছে।’

কম বয়সে স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণ নিয়ে এখনও খুব বেশি গবেষণা হয়নি। মূলত ৬০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি কেন বাড়ছে, তা নিয়েই বর্তমানে গবেষণা চলছে।

গবেষক স্টিভেন জে কিটনার আরও জানান, ‘এ’ ব্লাড গ্রুপের ব্যক্তিদের মধ্যে কেন এই ঝুঁকি বেশি, সে বিষয়ে এখনও কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এই রহস্য উদঘাটনের জন্য বিজ্ঞানীরা আরও গভীরভাবে গবেষণা চালাচ্ছেন।

এই গবেষণা ‘এ’ গ্রুপের রক্ত ધરાকারী ব্যক্তিদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। যদিও রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে এই তথ্য জানার ফলে তারা স্ট্রোকের ঝুঁকির কারণগুলো সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পারবেন। একইসাথে, ‘ও’ গ্রুপের রক্ত ધરાকারী ব্যক্তিরাও সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকিমুক্ত নন, তাই তাদেরও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।