মেরুদণ্ড অমূল্য সম্পদ, অজান্তেই যেসব অভ্যাস ডেকে আনছে বিপদ

মেরুদণ্ড মানব দেহের এক অত্যাবশ্যকীয় কাঠামো। এর উপর ভর করেই আমরা সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারি এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে করতে সক্ষম হই। মেরুদণ্ডে সামান্য সমস্যা দেখা দিলেও বসা, ওঠা, দাঁড়ানো সহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাধার সৃষ্টি হয়। এমনকি, গুরুতর সমস্যা মানুষকে পঙ্গু পর্যন্ত করে দিতে পারে।

বর্তমান যুগে ছোট থেকে বড় প্রায় সকলেই ভুল জীবনযাপন পদ্ধতির শিকার। অতিরিক্ত কাজের চাপ, দীর্ঘক্ষণ ধরে ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব – এই সমস্ত কারণই নীরবে আমাদের মেরুদণ্ডের ক্ষতি করে চলেছে। অজান্তে আমরা এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলেছি যা মেরুদণ্ডের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আসুন, সেই অভ্যাসগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা: দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে কাজ করলে মেরুদণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষত যারা ডেস্ক-বেসড কাজ করেন, তাদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব: অতিরিক্ত কাজের চাপে শরীরকে যথেষ্ট বিশ্রাম না দিলে মেরুদণ্ডের ক্ষতি হতে পারে। ঘুমের অভাব শরীরের পেশী ও হাড়ের স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে।

ভারী ব্যাগ বহন: নিয়মিত ভারী ব্যাগ, যেমন ল্যাপটপ ব্যাগ বা বইয়ের ব্যাগ পিঠে নিলে কাঁধ ও পিঠের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে মেরুদণ্ডে অস্বাভাবিক strain সৃষ্টি হয়।

অতিরিক্ত বিশ্রাম বা আলস্য: যেমন পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব মেরুদণ্ডের জন্য ক্ষতিকর, তেমনই অতিরিক্ত বিশ্রাম বা শারীরিক কার্যকলাপের অভাবও সমস্যার কারণ হতে পারে। নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন মেরুদণ্ডের পেশীগুলোকে দুর্বল করে দেয়।

ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো: অনেকেই উপুড় হয়ে বা অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে পিঠ ও কোমর বাঁকিয়ে ঘুমানোর অভ্যাস রাখেন। এই ধরনের ভুল ভঙ্গি মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে এবং ব্যথার সৃষ্টি করে।

হাই হিল বা শক্ত জুতা পরিধান: নিয়মিত উঁচু হিলের জুতা বা অতিরিক্ত শক্ত সোলযুক্ত জুতা পরার অভ্যাস মেরুদণ্ডে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে।

ঝুঁকে মোবাইল বা ল্যাপটপে কাজ: দীর্ঘক্ষণ ধরে ঝুঁকে মোবাইল ফোনে চ্যাট করা বা ল্যাপটপে কাজ করার সময় মেরুদণ্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এই অভ্যাসের কারণে পরবর্তীতে স্থায়ী সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দীর্ঘক্ষণ ড্রাইভিং: একটানা দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি বা বাইক চালালেও মেরুদণ্ডের ক্ষতি হতে পারে। ঝাঁকুনি এবং একই অবস্থানে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে মেরুদণ্ডের পেশী ও হাড়ে চাপ পড়ে।

আচমকা ভারী জিনিস তোলা: ভুল পদ্ধতিতে বা হঠাৎ করে ভারী কিছু তোলার চেষ্টা করলে মেরুদণ্ডে আঘাত লাগতে পারে এবং গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

খারাপ বিছানায় ঘুমানো: দীর্ঘদিন ধরে খুব শক্ত বা অসমান বিছানায় ঘুমালে মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বক্রতা বজায় থাকে না এবং ব্যথা সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আজ ৫ মে, বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবস। মেরুদণ্ডের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব চিরোপ্রাকটিক (ডাব্লুএফসি) ২০০৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালন করে আসছে। ডাব্লুএফসি বিভিন্ন সহযোগী সংস্থার সাথে মিলিতভাবে পিঠের ব্যথা ও মেরুদণ্ডের সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশ্ব মেরুদণ্ড দিবসের কার্যক্রম পরিচালনা করে।

আসুন, আমরা সকলে আমাদের মেরুদণ্ডের প্রতি আরও যত্নশীল হই এবং উপরোক্ত ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো পরিহার করে একটি সুস্থ জীবনযাপন করি। কারণ মেরুদণ্ডই আমাদের সোজা হয়ে দাঁড়ানোর শক্তি এবং সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।