মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহারে ভয়? জেনে নিন প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো!

পিরিয়ডের সময়টা যেকোনো নারীর জন্যই অস্বস্তিকর। তবে ব্যবহারকারীদের দাবি, এই সময় কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দেয় মেনস্ট্রুয়াল কাপ। যারা একবার এই কাপ ব্যবহার করেছেন, তারা কখনোই আর স্যানিটারি ন্যাপকিনের দিকে ফিরে তাকাতে চান না। চিকিৎসকরাও মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে অনেক নারীই নানা ভীতি থেকে এটি ব্যবহার করতে দ্বিধা বোধ করেন। এর প্রধান কারণ মেনস্ট্রুয়াল কাপ সম্পর্কে কিছু ভুল ধারণা।
মেনস্ট্রুয়াল কাপ কী?
মেনস্ট্রুয়াল কাপ হলো মেডিক্যাল গ্রেড সিলিকনের তৈরি একটি কাপ। পিরিয়ডের সময় রক্ত ধরে রাখার জন্য এটি স্যানিটারি ন্যাপকিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, স্যানিটারি ন্যাপকিনের চেয়ে এটি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর এবং পিরিয়ডের সময় যেকোনো সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকরী। পাশাপাশি এটি পিরিয়ডের দিনগুলোকে অনেক বেশি সহজ ও নির্ভর করে তোলে। এই কাপ ব্যবহার করলে যেমন কোনো ধরনের লিকেজের আশঙ্কা থাকে না, তেমনই ইনফেকশনের সম্ভাবনাও প্রায় নেই বললেই চলে। এবার জেনে নেওয়া যাক মেনস্ট্রুয়াল কাপ সম্পর্কে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা:
ভুল ধারণা ১: মেনস্ট্রুয়াল কাপ পরা যন্ত্রণাদায়ক
এটি একটি অত্যন্ত প্রচলিত ভুল ধারণা। মেনস্ট্রুয়াল কাপ মোটেই যন্ত্রণাদায়ক বা অস্বস্তিকর নয়। সঠিকভাবে পরার পর আপনি টেরও পাবেন না যে ভেতরে কিছু রয়েছে। অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই আপনি কাজকর্ম করতে পারবেন এবং কোনো ধরনের যন্ত্রণা অনুভব করবেন না।
ভুল ধারণা ২: মেনস্ট্রুয়াল কাপ পরলে ভার্জিনিটি নষ্ট হয়!
যোনির একটি অংশ হল হাইমেন, যার সঙ্গে যৌন জীবন বা সতীত্বের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। হাইমেন কোনো পর্দা নয়, এটি একটি রাবার ব্যান্ডের মতো স্থিতিস্থাপক অংশ। যৌন সম্পর্ক ছাড়াও সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো বা ব্যায়ামের মতো বিভিন্ন কারণে হাইমেন প্রসারিত হতে পারে। তাই মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের সঙ্গে হাইমেনের বা ভার্জিনিটির কোনো সম্পর্ক নেই।
ভুল ধারণা ৩: মেনস্ট্রুয়াল কাপের মাপ সবার জন্যই এক
নারীর শরীরে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন আসে। বিয়ের পর বা সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে যোনি পথ প্রসারিত হতে পারে। তাই সব বয়সের নারীর জন্য একই মাপের কাপ ব্যবহার করতে হবে, এই ধারণাটি ভুল। আপনার বয়সের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিক মাপের মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করুন। বাজারে ছোট, মাঝারি এবং বড় – এই তিন মাপের কাপ পাওয়া যায়। কেনার আগে আপনার জন্য কোনটি সঠিক, তা ভালোভাবে জেনে নিন।
ভুল ধারণা ৪: মেনস্ট্রুয়াল কাপের ধারণক্ষমতা কম
মেনস্ট্রুয়াল কাপের ধারণক্ষমতা কম, এটিও একটি ভুল ধারণা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পিরিয়ডে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ মিলি রক্তক্ষরণ হয়, যা প্রায় দুই থেকে তিন টেবিলচামচের সমান। খুব বেশি হলে এটি ৬০ মিলি বা চার টেবিলচামচ পর্যন্ত হতে পারে। তাই বুঝতেই পারছেন, প্রতিদিন কতটা রক্তক্ষরণ হয়। মেনস্ট্রুয়াল কাপের ধারণক্ষমতা সাধারণত এর চেয়ে অনেক বেশি হয়ে থাকে। তাই প্রতি চার ঘণ্টা পরপর কাপটি পরিষ্কার করে নিলেই যথেষ্ট। তবে একটানা আট ঘণ্টার বেশি কাপ ভেতরে রাখবেন না।
কীভাবে ব্যবহার করবেন:
মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ফোল্ডিং পদ্ধতি রয়েছে। নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সি-এর মতো করে কাপটি মুড়িয়ে নেওয়া সবচেয়ে সহজ হতে পারে। এরপর কাপটি ভেতরে প্রবেশ করালে সেটি নিজে থেকেই খুলে তার সঠিক স্থানে বসে যাবে। চারপাশে আঙুল দিয়ে স্পর্শ করে দেখে নিন কোনো ফাঁকা অংশ রয়েছে কিনা। প্রথম কয়েকবার মানিয়ে নিতে সামান্য অসুবিধা হতে পারে, তবে এরপর আপনি অবশ্যই স্বস্তি বোধ করবেন।
সুতরাং, মেনস্ট্রুয়াল কাপ সম্পর্কে প্রচলিত এই ভুল ধারণাগুলো ত্যাগ করুন এবং পিরিয়ডের সময় আরও স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক জীবনযাপন করুন।