মাথাব্যথা মানেই ব্রেন টিউমার নয়! জানুন প্রাথমিক লক্ষণ ও ঝুঁকি

অনেকেই মনে করেন, মাথাব্যথা ও চোখে ঝাপসা দেখা ব্রেন টিউমারের প্রাথমিক লক্ষণ। তবে এই ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। সাধারণভাবে, মাথাব্যথার কারণ হিসেবে ব্রেন টিউমারের সম্ভাবনা ১ শতাংশেরও কম। তাই সাধারণ মাথাব্যথা হলেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
ব্রেন টিউমারের মাথাব্যথা সাধারণত খুব ভোরে শুরু হয় এবং এর সঙ্গে খিঁচুনি হতে পারে। এই খিঁচুনি প্রথমে হাত, পা বা শরীরের অন্য কোনো অংশে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ব্রেন টিউমারের এই ধরনের মাথাব্যথা সহজে নিরাময় হয় না এবং এটি একটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার হলে রোগীর দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমে আসে। আক্রান্ত ব্যক্তি সামনের অংশ স্পষ্ট দেখতে পেলেও দুপাশের দৃষ্টি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।
অন্যদিকে, ব্রেনের সামনের অংশে অর্থাৎ ফ্রন্টাল লোবে টিউমার হলে রোগীর স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। মাথাব্যথার তীব্রতায় রোগী অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারেন এবং দৃষ্টিশক্তিও লোপ পেতে পারে। মস্তিষ্কের মটর এরিয়ায় টিউমার হলে, টিউমারের বিপরীত দিকে প্যারালাইসিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
মস্তিষ্কের খুলির নিচের প্রকোষ্ঠে টিউমার হলে রোগীর হাঁটাচলার সময় ভারসাম্য রক্ষার সমস্যা দেখা দেয় এবং তারা সহজেই পড়ে যেতে পারেন। এছাড়াও, কানে কম শোনা এবং কথা স্পষ্ট করে বলতে না পারার মতো সমস্যাও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিউমার যদি আকারে খুব বড় হয়ে যায়, তবে রোগীর আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকিও থাকে। তাই ব্রেন টিউমারের লক্ষণগুলিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং দ্রুত রোগ নির্ণয় করা অত্যন্ত জরুরি।
ব্রেন টিউমার শনাক্ত করার জন্য সাধারণত ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) করার প্রয়োজন হয়। কিছু ক্ষেত্রে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি (সিটি স্ক্যান)-এরও দরকার হতে পারে। যদি আপনার মাথাব্যথা অস্বাভাবিক মনে হয় এবং এর সঙ্গে অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ থাকে, তবে কালবিলম্ব না করে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করলে ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।