সারাদিনের কর্মব্যস্ততা ও ক্লান্তির কারণে অনেকে দুপুরের পরিবর্তে রাতেই স্নান করেন। অফিস থেকে ফিরে এই অভ্যাস তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে স্নানের পর ভেজা চুল নিয়েই ঘুমিয়ে পড়লে ডেকে আসতে পারে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং চুলের মারাত্মক ক্ষতি। আপনারও যদি এই অভ্যাস থাকে, তবে সময় থাকতে সাবধান হোন।
ভেজা চুল নিয়ে ঘুমালে কী কী ক্ষতি হতে পারে, জেনে নিন:
১. ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি: ভেজা চুলে ঘুমালে বালিশের কভারের সংস্পর্শে মাথার ত্বক ও চুল শুকোতে শুরু করে। আর্দ্রতা ধরে রাখার কারণে বালিশের কাপড়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক (ফাঙ্গাস) বাসা বাঁধে। এই ফাঙ্গাস সরাসরি মাথার ত্বকে সংক্রমণ ঘটায়। যার ফলস্বরূপ খুশকি, চুলকানি এবং অতিরিক্ত চুল পড়ে যাওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা শুরু হতে পারে।
২. ঠাণ্ডা লাগার সমস্যা বৃদ্ধি: যাদের সহজে ঠাণ্ডা লেগে যায়, তাদের জন্য ভেজা চুলে ঘুমানো আরও বিপদজনক। ভেজা অবস্থায় মাথার ত্বক দীর্ঘক্ষণ থাকলে তা দ্রুত ঠাণ্ডা লাগার কারণ হতে পারে। এর থেকে সর্দি, কাশি এবং অসহ্য মাথা যন্ত্রণার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ঠাণ্ডা জনিত সমস্যা এড়াতে এই অভ্যাস দ্রুত ত্যাগ করা উচিত।
৩. চুলে জট ও অতিরিক্ত চুল ঝরা: ভেজা চুল সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় থাকে। এই অবস্থায় খোলা চুলে ঘুমালে বালিশের ঘষায় চুলে সহজেই জট পড়ে যায়। সকালে সেই জট ছাড়াতে গিয়ে চুল ছেঁড়া ও ভেঙে যাওয়ার সমস্যা আরও বাড়ে। ভেজা চুলে জট পড়া আটকানো প্রায় অসম্ভব, যা চুলের স্বাস্থ্য নষ্ট করে দেয়।
৪. চুল ভেঙে যাওয়া ও রুক্ষতা: ভেজা চুল অত্যন্ত ভঙ্গুর হয়। রাতে ভেজা চুল নিয়ে ঘুমালে বালিশের সাথে ঘষা লেগে চুলের ফলিকলগুলি ভেঙে যায়। এর ফলে চুল দ্রুত প্রাণহীন, রুক্ষ ও জটযুক্ত হয়ে পড়ে। চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও ঔজ্জ্বল্যও কমতে শুরু করে।
করণীয়:
-
সকালে বা সন্ধ্যার দিকে স্নান সেরে চুল ভালোভাবে শুকিয়ে তবেই ঘুমাতে যান। ভেজা চুল নিয়ে ঘুমোতে যাওয়া কঠোরভাবে এড়িয়ে চলুন।
-
যদি রাতে স্নান করতেই হয়, তবে অন্তত চুল ভেজানো থেকে বিরত থাকুন। শুধুমাত্র হালকা গরম জল দিয়ে হাত-পা ও শরীর ধুয়ে সতেজ হতে পারেন।
-
চুল ভালো রাখতে বালিশের সুতির কভারের বদলে সিল্কের কভার ব্যবহার করুন। সিল্কের কভারে ঘষা কম লাগার কারণে চুল ছেঁড়া বা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কমে।