ভালোবাসার মানুষ পেতে জাদুবিদ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন জেন-জিরা!, জেনেনিন কতটা কার্যক্যর?

সম্পর্কের বাজারে অনিশ্চয়তা কাটাতে এবং মনের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে বর্তমান প্রজন্মের তরুণেরা প্রচলিত ডেটিং অ্যাপের গণ্ডি ছাড়িয়ে এক নতুন পথে হাঁটছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, জেন-জি প্রজন্মের প্রায় ৬৪ শতাংশ তরুণ-তরুণী জীবনে অন্তত একবার ভালোবাসার কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে কাছে পেতে কিংবা ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগাতে নানা আধ্যাত্মিক ও বিকল্প পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছেন। একাকীত্ব ও সম্পর্কের জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে প্রযুক্তির এই যুগে দাঁড়িয়ে প্রাচীন আধ্যাত্মিক চর্চা ও জাদুবিদ্যার প্রতি যুবসমাজের এই ক্রমবর্ধমান আকর্ষণ এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ডেটিং নিউজের ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে ম্যানিফেস্টেশন বা স্ক্রিপ্টিং পদ্ধতি। প্রায় ২৯ শতাংশ তরুণ কাঙ্ক্ষিত সম্পর্কের কথা ডায়েরিতে লিখে রাখেন। এ ছাড়া ২৫ শতাংশ সাইকিকের পরামর্শ নেওয়া, ১৭ শতাংশ ট্যারো কার্ড রিডার এবং ১৬ শতাংশ অ্যাস্ট্রোলজির ওপর ভরসা রাখেন। এমনকি ১৯ শতাংশ তরুণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লাভ স্পেল বা ভালোবাসার বিশেষ রিচুয়ালের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতেও পিছপা হননি। দ্রুতগতির এই জীবনে সম্পর্কের স্থায়িত্ব বা মেসেজের রিপ্লাই না পাওয়ার মতো ছোটখাটো অনিশ্চয়তা থেকেই মূলত এই বিকল্প ভাবনার জন্ম হচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যখন বাস্তব জীবনে মানুষ সম্পর্কের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তখন এ ধরনের প্রতীকী আচার বা রিচুয়াল তাদের মনে কিছুটা মানসিক শান্তি ও আত্মবিশ্বাস জোগায়। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের গবেষকদের মতে, প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর এই ধরনের চর্চা শোক বা মানসিক কষ্ট কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে লাভ স্পেল বা ট্যারো রিডিংয়ের মতো মাধ্যমগুলো সাময়িক মানসিক সান্ত্বনা দিলেও তা দিয়ে অন্য মানুষের অনুভূতি বা সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান এবং দুই জনের সমান প্রচেষ্টার মাধ্যমেই।