বুদ্ধিমান ও চটপটে সন্তান চান? এই ৮টি টিপস মেনে চলুন!

সন্তানের জন্মের পর প্রতিটি বাবা-মায়ের প্রধান লক্ষ্য থাকে তাকে সঠিকভাবে এবং ইতিবাচকভাবে বড় করে তোলা। তবে অনেক সময় সন্তান পালনে কিছু ত্রুটি থেকে যায়, যার কারণে শিশুরা পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না। অথচ শৈশব থেকে কিছু সহজ উপায় অনুসরণ করলেই আপনার সন্তান হয়ে উঠবে বুদ্ধিমান ও চটপটে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই গুরুত্বপূর্ণ টিপসগুলো:

১. টেলিভিশন থেকে দূরে রাখুন:

সন্তানের মধ্যে সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য তাকে যতটা সম্ভব টেলিভিশন থেকে দূরে রাখুন। শিশু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুরা টিভি দেখতে পছন্দ করে বলে অনেক সময় বাবা-মায়েরা তাদের সেই দিকেই ঠেলে দেন। তবে টিভির চেয়ে ছড়ার বই বা গল্পের বই তাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। এটি তাদের কল্পনাশক্তি বৃদ্ধি করে এবং নতুন শব্দ শিখতে সাহায্য করে।

২. সঙ্গ দিন:

চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, শিশুর মানসিক বিকাশে মা-বাবার সঙ্গ সবচেয়ে বেশি কার্যকর। আপনার সন্তানকে সক্রিয় ও চটপটে করে তুলতে তার সাথে ঘন ঘন যোগাযোগ বাড়ান এবং তাকে পর্যাপ্ত সময় দিন। ছোটবেলা থেকেই খেলার ছলে মজার ছড়া, নামতা, প্রচলিত গল্প ও গান শোনাতে থাকুন। এটি মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে তার স্মৃতিশক্তি উন্নত করবে।

৩. দু’বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ান:

মাতৃদুগ্ধ শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের চাবিকাঠি। তাই জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে মায়ের প্রথম ঘন হলুদ দুধ পান করান। এছাড়াও অন্তত দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধকে তার খাদ্য তালিকার শীর্ষে রাখুন। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বুদ্ধির বিকাশে অপরিমেয় ভূমিকা রাখে।

৪. মাঝে মাঝে গান শুনতে দিন:

দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় শিশুকে হালকা গান শোনান। যেকোনো শান্ত ও সুরলয়যুক্ত গান শিশুর হাইপোথ্যালামাসকে শান্ত করে এবং তাকে ভাবুক করে তোলে। চিকিৎসা বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে, গান শিশুর মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং স্মৃতিশক্তি সতেজ রাখে। তাই সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই গান বা বাদ্যযন্ত্রের তালিম দেওয়ার চেষ্টা করুন। এটি তার সৃজনশীলতাকেও প্রসারিত করবে।

৫. দাবা খেলায় আগ্রহী করুন:

যদি আপনার সন্তানের আগ্রহ থাকে, তবে চার বছর বয়স হলেই তাকে দাবা শিখতে উৎসাহিত করুন। দাবা এমন একটি খেলা যা শিখতে হলে ধীরস্থির ও বুদ্ধিমান হতে হয়। এই খেলার সংস্পর্শে এলে শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটে, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং একাগ্রতা বাড়ে।

৬. নতুন নতুন শব্দ সংগ্রহে উৎসাহিত করুন:

ছোটবেলা থেকেই আপনার সন্তানের শব্দ ভান্ডার বৃদ্ধির দিকে নজর দিন। মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজির প্রতিও তার আগ্রহ তৈরি করুন। এক্ষেত্রে ওয়ার্ড বুক ব্যবহার করা সহায়ক হতে পারে। পড়তে শেখার আগে আপনি নিজেই তার সামনে সঠিক উচ্চারণে নতুন শব্দগুলো পড়ুন। এটি শিশুর কানকে নতুন শব্দ শিখতে আগ্রহী করে তুলবে।

৭. প্রকৃতির সঙ্গে মিশতে দিন:

শিশুর বিকাশে তার চারপাশের প্রকৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শুধু মানুষ নয়, গাছপালা ও পশু-পাখির সাথেও তাকে মিশতে দিন। বাড়িতে পোষ্য না থাকলেও, সন্তানকে নির্ভয়ে চারপাশের পশু-পাখির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে উৎসাহিত করুন। পশু-পাখিদের প্রতি মমত্ববোধ এবং তাদের সাথে খেলাধুলা করা তাকে সুন্দর মনের অধিকারী করবে।

৮. উপকারী হতে শেখান:

সন্তানকে আত্মকেন্দ্রিক না করে ছোটবেলা থেকেই অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং উপকারী হতে শেখান। পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধব সকলের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে তাকে উৎসাহিত করুন। এক্ষেত্রে আপনি নিজেই তার আদর্শ হতে পারেন। নিঃস্বার্থভাবে অন্যের উপকার করার সুফল তাকে ছোটবেলা থেকেই শেখান। এটি আপনার সন্তানকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।