বাসি ভাত: ফেলে না দিয়ে খেয়ে নিন, পুষ্টিগুণে ভরপুর!

অনেকেরই বাসি ভাত খাওয়ার অভ্যাস আছে, কেউ আবার শখ করে ইলিশ ভাজা বা ভর্তার সঙ্গে বাসি ভাত খেতে পছন্দ করেন। জানলে অবাক হবেন, গরম ভাতের চেয়েও নাকি বাসি ভাতে বেশি পুষ্টিগুণ থাকে! পুষ্টিবিদদের এমনটাই মত। গবেষণা বলছে, বাসি ভাতে নানা ধরনের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা পুষ্টিকর খনিজ পদার্থ থাকে, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
পুষ্টিগুণে এগিয়ে পান্তা ভাত
গবেষণায় দেখা গেছে, বাসি ভাতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস, ভিটামিন বি-এর মতো পুষ্টিকর উপাদান প্রচুর পরিমাণে থাকে। একটি তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়:
আয়রন: ১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ ভাতে যেখানে ৩.৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, সেখানে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে তৈরি পান্তা ভাতে এর পরিমাণ বেড়ে হয় ৭৩.৯ মিলিগ্রাম।
ক্যালসিয়াম: একইভাবে, ১০০ মিলিগ্রাম সাধারণ ভাতে ২১ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকলেও পান্তা ভাতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫০ মিলিগ্রাম।
বাসি ভাতের আশ্চর্য উপকারিতা
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বাসি ভাতে থাকা পুষ্টিকর পদার্থগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড়কে মজবুত রাখে এবং ম্যাগনেসিয়াম শরীরে নিঃসৃত এনজাইমকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে।
বাসি ভাতে প্রচুর পরিমাণে বিটা-সিটোস্টেরল এবং কেম্পেস্টেরোলের মতো মেটাবলাইটসও থাকে, যা শরীরকে প্রদাহ বা যন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও, এই উপাদানগুলো কোলেস্টেরল কমাতেও সহায়ক।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বাসি ভাতে ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সাধারণত টকদইয়ের মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। অর্থাৎ, বাসি ভাত খেলে শরীরে প্রোবায়োটিকও মিলবে। এই প্রোবায়োটিকের কারণে অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে যায়, ফলে পরিপাকতন্ত্র ভালো থাকে ও হজমশক্তি বাড়ে। বিপাকক্রিয়া উন্নত হওয়ায় ওজন কমাতেও এটি সাহায্য করতে পারে।
সতর্কতা ও সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি
তবে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন। ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভাতের ফারমেন্টেশন হলে সেখানে অ্যালকোহলের উপাদান তৈরি হতে পারে। এই ভাত খাওয়ার পর শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং ঘুম পেতে পারে।
এছাড়াও, বাসি ভাত যদি পরিষ্কার পাত্রে বিশুদ্ধ জল দিয়ে রাখা না হয়, তাহলে সেখানে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের মতো অণুজীবের প্রজনন ক্ষেত্র হয়ে ওঠার ভয়েই বিশেষজ্ঞরা সাধারণত পান্তা বা বাসি ভাত খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন।
তবে কিছু বিষয় মেনে চললে বাসি ভাত সংরক্ষণ করে খাওয়া নিরাপদ:
রান্না করার এক ঘণ্টার মধ্যে ভাত ঠান্ডা করে একটি এয়ার টাইট বক্সে ফ্রিজে রাখুন।
রান্না করা ভাত কক্ষ তাপমাত্রায় ২ ঘণ্টার বেশি সময় রেখে দেবেন না, এতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাবে।
ফ্রিজে রাখলেও তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখুন।
এভাবে অন্তত তিন দিন বাসি ভাত সংরক্ষণ করে খেতে পারবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ফ্রিজ থেকে বের করার পর ঘরের তাপমাত্রায় আসার আগেই ভাত খেয়ে নিন।
সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে বাসি ভাত হতে পারে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য একটি উপকারী সংযোজন। আপনি কি এর আগে বাসি ভাতের এই পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতেন?