ফ্যাটি লিভারকে বশে আনতে ডায়েটে যোগ করুন এই খাবারগুলি, জানালেন বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ

ফ্যাটি লিভার ডিজিজ একটি অত্যন্ত জটিল রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে লিভারে অতিরিক্ত মেদ জমে, যা ধীরে ধীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে। এর ফলস্বরূপ লিভারের স্বাভাবিক কার্যকারিতা হ্রাস পেতে শুরু করে। সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে তাই ফ্যাটি লিভারকে নিয়ন্ত্রণে আনা অপরিহার্য। এই পরিস্থিতিতে, ভারতের বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ কোয়েল পাল চৌধুরি এমন কয়েকটি খাবারের কথা জানিয়েছেন, যা লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
প্রোটিন: কোয়েল পাল চৌধুরির মতে, ফ্যাটি লিভারের সমস্যা সমাধানে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস ও ডিমের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। কারণ এই খাবারগুলিতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, যা লিভারের কোষের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগীদের মাটন বা খাসির মাংস সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা উচিত। কারণ মাটনে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
শাক-সবজি: আমাদের পরিচিত শাক ও সবজিতে ফাইবারের প্রাচুর্য রয়েছে। এই উপাদানটি দেহের ফ্যাট মেটাবলিজম বা চর্বি বিপাক প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সহায়ক। এছাড়াও, শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান, যা লিভারের প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই সুস্থ থাকতে দ্রুত খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি যোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদ কোয়েল পাল চৌধুরি।
টকদই: লিভারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টকদই একটি অত্যন্ত উপকারী খাবার। পুষ্টিবিদ কোয়েল পাল চৌধুরি ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত সকল রোগীদের নিয়মিত টকদই খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে, উপকার পেতে হলে বাড়িতে তৈরি লো ফ্যাট দুধের টকদই সেবন করতে হবে।
কাঁচা হলুদ: কাঁচা হলুদ বহুবিধ স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে অত্যন্ত কার্যকরী। এমনকি ফ্যাটি লিভারের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণেও এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আসলে, কাঁচা হলুদে প্রদাহনাশক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। নিয়মিত কাঁচা হলুদ সেবন করলে লিভারের প্রদাহ অনেকাংশে হ্রাস করা সম্ভব বলে মনে করেন কোয়েল পাল চৌধুরি।
বারবার অল্প পরিমাণে খাবার গ্রহণ: পুষ্টিবিদ কোয়েল পাল চৌধুরির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো দীর্ঘ সময় পর পর খাবার গ্রহণ না করা। তাঁর মতে, দীর্ঘক্ষণ পর খাবার খেলে লিভারে ফ্যাট জমার ঝুঁকি বাড়ে। তাই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য ২-৩ ঘণ্টা অন্তর অল্প পরিমাণে খাবার গ্রহণ করা উচিত। এই নিয়ম মেনে চললে দ্রুত সুস্থতা লাভ করা সম্ভব।
বিশিষ্ট এই পুষ্টিবিদের দেওয়া এই খাদ্যতালিকা এবং নিয়মাবলী মেনে চললে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা এবং একটি সুস্থ জীবনযাপন করা অনেকাংশেই সম্ভব বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।