প্রেগন্যান্সির পর আপনাকে যা কেউ বলবে না, প্রসবের পর ১০টি গোপন বাস্তবতা, যা জানা জরুরি

ছোট্ট অতিথির আগমনে চারপাশে আনন্দ আর উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীদের ফুলেল শুভেচ্ছা আর উপহারে ভরে ওঠে ঘর। তবে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর একজন নতুন মা’কে কিছু কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হয়, যা বেশিরভাগ সময়ই কেউ আগে থেকে বলেন না।
মাতৃত্বের পূর্ণতা যেমন সুখের, তেমনই এই সময়ের শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জগুলি জেনে রাখা জরুরি। প্রসব পরবর্তী সময়ে একজন নারীর জীবনে যে ১০টি বড় পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে এই বিশেষ ফিচার। হতাশা নয়, বরং প্রস্তুতির জন্য এই তথ্যগুলি জেনে রাখা প্রয়োজন।
প্রসব পরবর্তী ১০টি কঠিন বাস্তবতা
শারীরিক আকার ও চেহারা সংক্রান্ত
১. পেটে এখনও গর্ভবতীর ছাপ: প্রসবের পরেও অনেকদিন আপনাকে গর্ভবতী মনে হবে। জরায়ু পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে বেশ কিছুদিন সময় লাগতে পারে। আগের চেহারায় ফিরতে নিয়মিত এবং বিজ্ঞানসম্মত ব্যায়াম জরুরি। ২. স্ট্রাচ মার্কস (Stretch Marks): পেটে গোলাপি রেখা বা স্ট্রাচ মার্কস আগে থেকেই ছিল। তবে প্রসবের পর চামড়া সংকুচিত হওয়ায় এই দাগগুলো আরও প্রকট এবং বিরক্তিকর মনে হতে পারে। যদিও এই দাগগুলো আস্তে আস্তে হালকা হয়ে যায়। ৩. জুতা পরিবর্তন: এডিমায় না ভুগলেও, আপনার পায়ের পেশীগুলো কিছুটা ফুলে যেতে পারে। ফলে আপনার আগের জুতাগুলো পায়ে নাও লাগতে পারে। ৪. চুল পড়ার সমস্যা: হরমোনের পরিবর্তনের কারণে প্রসবের কিছু মাস পর অনেকেরই চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। ৫. ডার্ক সার্কেল: নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমের অভাবের কারণে চোখের নীচে কালি পড়াটা স্বাভাবিক। অনেক সময় মেকআপ দিয়েও তা ঢাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
শারীরিক প্রক্রিয়া ও অস্বস্তি সংক্রান্ত
৬. লুচিয়া (Lochia) বা রক্তপাত: প্রসবের পর যে ব্লিডিং হয়, তাকে ‘লুচিয়া’ বলে। এই রক্তপাতের পরিমাণ পিরিয়ডের চেয়েও বেশি হতে পারে এবং এটি ৫ দিন বা তার বেশি সময় ধরে থাকতে পারে। ৭. ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা: জরায়ুর চাপ কমা এবং শরীরের অতিরিক্ত জল বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়ার কারণে ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা তৈরি হয়। ৮. অবিরাম ক্ষুধা: আপনি সব সময়ই ক্ষুধার্ত অনুভব করবেন, বিশেষ করে যদি আপনি শিশুকে ব্রেস্ট ফিডিং করান। ব্রেস্ট ফিডিংয়ের জন্য শরীরকে অতিরিক্ত শক্তি উৎপাদন করতে হয়।
মানসিক ও জীবনযাত্রা সংক্রান্ত
৯. ঘুমের অভাব: আপনার রাতের ঘুমের নিরবিচ্ছিন্নতা সম্পূর্ণ নষ্ট হবে। সন্তানের যত্নের কারণে ঘুম ঠিকমতো হবে না, যা শারীরিক দুর্বলতা বাড়িয়ে দেবে। ১০. মেজাজের অকস্মাৎ পরিবর্তন: হরমোনের তারতম্যের কারণে আপনার মেজাজের হঠাৎ পরিবর্তন হতে পারে। হঠাৎ করেই রেগে যাওয়া বা কান্নাকাটি করাটা স্বাভাবিক ঘটনা। তবে মেজাজের এই পরিবর্তন যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং তা দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করে, তবে তা বিপজ্জনকও হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।