পুরুষদের চেয়ে নারীরা কেন বেশি ডিপ্রেশনে ভোগেন? অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ভূমিকা জানুন!

সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই পুষ্টিকর খাদ্য শুধু শারীরিক সুস্থতার জন্যই নয়, মানসিক সুস্থতার জন্যও অপরিহার্য। মানসিক স্বাস্থ্য এবং বিষণ্ণতা দেখা দেওয়াও নির্ভর করে শরীরে পুষ্টির উপস্থিতি ও ঘাটতির উপর। বিষণ্ণতার হাজারো কারণ থাকতে পারে, তবে পরোক্ষভাবে হলেও এর পেছনে অপুষ্টিজনিত সমস্যাটি একটি বড় কারণ।
বিষণ্ণতা (Depression) সৃষ্টিকারী ৫টি প্রধান পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি নিচে দেওয়া হলো:
১. ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (Omega-3 Fatty Acid):
ঘাটতি: শরীরে ওমেগা-৩ আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের ঘাটতি দেখা দেওয়া থেকে বিষণ্ণতা দেখা দেয়।
ক্ষতি: ওমেগা-৩ এর অভাবে শুধু বিষণ্ণতাই নয়, মনোযোগের অভাব ও স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়ার সমস্যাও দেখা দেয়।
উৎস: তৈলাক্ত মাছ, ডিম এবং বিভিন্ন ধরণের বাদাম থেকে এই পুষ্টি উপাদানটি পাওয়া যায়।
২. ভিটামিন-ডি (Vitamin-D):
ঘাটতি: শরীরে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতির ফলে শারীরিক সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে বিষণ্ণতা, ডিমেনশিয়া ও মানসিক অসামঞ্জস্যতার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কারণ: শীতকালে এর অভাব বেশি দেখা দেয়, কারণ ভিটামিন-ডি এর অন্যতম প্রধান উৎস হলো সূর্যের আলো।
৩. ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স (Vitamin B Complex):
উপকারিতা: ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন বি১২ হৃদযন্ত্রের সমস্যা, সুস্থ ত্বক ও নখ এবং মানসিক সুস্থতাও বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ঘাটতি: এই ভিটামিনের অভাবে স্বাভাবিকভাবেই মানসিক বিষণ্ণতা ও অস্থিরতা বোধ দেখা দেয়। পুরুষদের চাইতে নারীরা এই সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন।
৪. অ্যামিনো অ্যাসিড (Amino Acid):
ভূমিকা: অ্যামিনো অ্যাসিডকে বিল্ডিং ব্লক হিসেবে অবিহিত করা হয়। এতে থাকা প্রোটিন মনকে স্বাভাবিক রাখতে ও পরিপূর্ণভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
ঘাটতি: শরীরে অ্যামিনো অ্যাসিডের অভাবে মাথা ঘোরানো, আন-ফোকাসড ভাব এবং সকল কাজে নিরুৎসাহ কাজ করে। এই নিরুৎসাহিত ভাব থেকেই বিষণ্ণতা কাজ করে।
৫. আয়রন (Iron):
ঘাটতি: নারীদের মাঝে আয়রনের ঘাটতি খুবই কমন (অন্তত পক্ষে ২০% নারী এবং ৫০% গর্ভবতী নারীর শরীরে এই ঘাটতি পাওয়া যায়)।
ক্ষতি: আয়রনের ঘাটতির ফলে রক্তে প্লেটলেট কমে যাওয়ার সাইড ইফেক্ট হিসেবে দুর্বলতা, মনোযোগের ঘাটতি ও মন খারাপ ভাব বা বিষণ্ণতাবোধ কাজ করে।