পিরিয়ডের ব্যথায় আর নয় পেইন কিলার! ঘরোয়া উপায়ে পান মুক্তি

পিরিয়ডের সময় তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা প্রায় প্রতিটি নারীরই পরিচিত অভিজ্ঞতা। এই ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই চটজলদি পেইন কিলারের শরণাপন্ন হন। তবে ঘন ঘন পেইন কিলার খেলে সাময়িকভাবে আরাম মিললেও শরীরের অন্যান্য অঙ্গের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তাই ওষুধ ছাড়াই যদি এই ব্যথা কমানো যায়, তবে তা শরীরের জন্য অনেক ভালো। এক্ষেত্রে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে পিরিয়ডের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সেই উপায়গুলো:

ভিটামিন ডি ও বি:

পিরিয়ডের সময় শরীরে ভিটামিন ডি-এর পর্যাপ্ত জোগান দেওয়া জরুরি। ভিটামিন ডি হাড় ও পেশীর ব্যথা কমাতে সহায়ক। এছাড়াও, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ খাবার, যেমন ডিম, দুধ, সবুজ শাকসবজি, এবং শস্য গ্রহণ করুন। ভিটামিন বি ব্যথা কমাতে এবং শরীরের দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে।

আনারস:

অনেকেরই ভুল ধারণা আছে যে পিরিয়ডের সময় আনারস খাওয়া উচিত নয়। তবে এটি সম্পূর্ণ ভুল। বরং এই সময় আনারস বা আনারসের জুস খাওয়া পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে খুবই কার্যকর। আনারসে ব্রোমেলিন নামক একটি এনজাইম থাকে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং পেশীর খিঁচুনি উপশম করে।

আদা:

আদার বহুবিধ গুণাগুণের কথা তো সকলেরই জানা। তবে এটি পিরিয়ডের সময়কার মারাত্মক পেটের ব্যথা থেকেও উপশম দিতে পারে। জ্বর বা মাথাব্যথা হলে যেমন আদা চা পান করা হয়, তেমনই তলপেটে বা কোমরে ব্যথা হলে আদা চা পান করুন। এছাড়াও, রান্নায় আদার পরিমাণ একটু বাড়িয়ে দিন। আদার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

যোগব্যায়াম:

পিরিয়ডের সময় হরমোনের ওঠানামার কারণে পেটে ব্যথা অনুভূত হয়। হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিদিন অন্তত আধ ঘণ্টা যোগব্যায়াম করা উচিত। কিছু বিশেষ যোগাসন, যেমন ভুজঙ্গাসন, মার্জারাসন এবং বালাসন তলপেটের পেশী শক্তিশালী করতে এবং হরমোনজনিত সমস্যা কমাতে সহায়ক। নিয়মিত যোগাভ্যাসের মাধ্যমে পিরিয়ডের সময় ব্যথা অনেক কমে যায়।

চকোলেট:

ঋতুস্রাবের সময় অনেকেরই মন খারাপ থাকে। অবসাদ ও ক্লান্তির কারণে আরও বেশি অসুস্থ লাগে। মেজাজ ভালো রাখতে এই সময় অল্প পরিমাণে ডার্ক চকোলেট খেতে পারেন। ডার্ক চকোলেটে ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা পেশীর খিঁচুনি কমাতে সাহায্য করে এবং মনকে প্রফুল্ল রাখে। তবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত চকোলেট এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

যা এড়িয়ে চলবেন:

পিরিয়ডের সময় বেশি তেল-মশলা জাতীয় খাবার, ফাস্টফুড এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। এই ধরনের খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে এবং ব্যথা আরও তীব্র করতে পারে। হালকা ও সহজে হজমযোগ্য খাবার গ্রহণ করাই এই সময় বুদ্ধিমানের কাজ।

উপরের ঘরোয়া উপায়গুলো অবলম্বন করে অনেকেই পিরিয়ডের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে ব্যথা যদি অসহ্য হয় এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।