পিরিয়ডের দিনগুলিতে আর নয় মেজাজ হারানো! PMS-এর সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আয়ুর্বেদ দেখাচ্ছে ৫টি সহজ ঘরোয়া পথ

ঋতুস্রাবের সময় বহু নারীরই মেজাজ ভালো থাকে না। মুহূর্তের মধ্যে বিরক্তি, অস্বস্তি, পেট ব্যথা, দুর্বলতা এবং মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তন – এই সবগুলিই ‘পিএমএস’ বা প্রিমেনস্ট্রুরাল সিন্ড্রোমের (Premenstrual Syndrome) সাধারণ লক্ষণ। এই শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তি অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনকে কঠিন করে তোলে। তবে সুসংবাদ হলো, আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য একাধিক ঘরোয়া উপায় বাতলে দিয়েছেন, যা এই সময়কার কষ্ট লাঘব করতে পারে।
১. নিয়মিত ব্যায়াম: স্ট্রেস কমানোর সহজ মন্ত্র
শারীরিক কার্যকলাপ এই সময়ে অত্যন্ত উপকারী। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট প্রাণায়াম করা মানসিক চাপ কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী। সকাল বা সন্ধ্যা – যেকোনো সময়ই এটি করা যায়। এছাড়াও, দিনে ৪০ মিনিট হাঁটাচলা, সাইকেলিং, জগিং, রানিং, জিম বা নাচ – যেকোনো ধরনের শারীরিক কসরত শরীরকে সচল ও মনকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়াম স্ট্রেস হরমোন কমাতে এবং এনডরফিন নিঃসরণে সাহায্য করে, যা মেজাজ ভালো রাখতে সহায়ক।
২. ধনে পাতার জুস: পেটের স্বস্তি, হরমোনের ভারসাম্য
ধনে পাতা শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, পিরিয়ডজনিত বিভিন্ন সমস্যা কমাতেও এটি এক প্রাকৃতিক ঔষধ। দিনে একবার অন্তত ধনে পাতার জুস পান করলে পেটের অস্বস্তি কমে আসে। ধনে পাতা না থাকলে, শুকনো ধনে জলে ভিজিয়ে রেখে সেই জল পান করলেও একই ফল মিলবে। প্রাপ্তবয়স্ক একজন মহিলার সারাদিনে ৭ থেকে ১২ গ্লাস জল পান করা এই সময়ে অত্যন্ত জরুরি, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং টক্সিন দূর করে।
৩. কিশমিশ ও আমন্ড: সকালের পুষ্টিকর শুরু
প্রতিদিন রাতে কিছু আমন্ড বাদাম ও কিশমিশ ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে সেগুলো খেয়ে ফেলুন। এটি পিরিয়ডজনিত বিভিন্ন ধরনের সমস্যা যেমন – পেট ব্যথা, দুর্বলতা এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতা সমাধানে অত্যন্ত কার্যকর। বাদাম ও কিশমিশ প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং শক্তি যোগায়।
৪. সবজির বীজ: চক্র অনুযায়ী পুষ্টি
পিরিয়ডজনিত সমস্যা মোকাবিলায় সবজির বীজের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
পিরিয়ড শুরুর প্রথম সপ্তাহে: কুমড়োর বীজ খাওয়া উপকারী। এটি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
মেনস্ট্রুয়াল সাইকেলের শেষ দিকে: সূর্যমুখীর বীজ ও তিল খাওয়া খুবই উপকারী। এই বীজগুলোতে থাকা ফ্যাট ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস শরীরকে সাপোর্ট দেয়।
৫. মিষ্টি ফল ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: মেটাবলিজমের সহায়ক
এই সময়ে দুধ, অলিভ অয়েল জাতীয় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং বীজ জাতীয় খাবার ও বাদাম জাতীয় খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই খাবারগুলো মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়াকে ভালো রাখে এবং হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। মিষ্টি ফলেও প্রাকৃতিক শর্করা এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল থাকে, যা দুর্বলতা কাটাতে সহায়ক।
৬. পর্যাপ্ত ঘুম: শরীরকে দিন পূর্ণ বিশ্রাম
পিরিয়ডের সময়ের সমস্যা কাটাতে বেশি রাত না জেগে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া উচিত। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, রাত ১০টা নাগাদ ঘুমিয়ে পড়লে তা শরীরের পক্ষে সবচেয়ে ভালো। এই সময় শরীরকে যথাসম্ভব বিশ্রামে রাখা জরুরি, কারণ পর্যাপ্ত ঘুম শারীরিক ও মানসিক চাপ কমাতে এবং শরীরকে পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
এই সহজ ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করে পিরিয়ডের দিনগুলিতে আপনি অনেকটাই স্বস্তি পেতে পারেন। তবে, যদি সমস্যা গুরুতর হয়, তবে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।