পিরিয়ডের অনিয়ম: কখন দুশ্চিন্তা করবেন, কখন ঘরোয়া উপায়ে মিলবে সমাধান?

নারীদের মধ্যে পিরিয়ডের সাইকেলে সমস্যা দেখা দেওয়া একটি খুবই প্রচলিত ঘটনা। কখনও সময়ের আগেই পিরিয়ড শুরু হয়, আবার কখনও নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও পিরিয়ডের দেখা মেলে না। অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগার কিছু নেই, কারণ শারীরিক, মানসিক এবং পারিপার্শ্বিক নানান কারণে নির্দিষ্ট সময়ের কয়েকদিন আগে অথবা পরে পিরিয়ড হতে পারে।
তবে এখানেও একটি ‘কিন্তু’ আছে। অনিয়মিত পিরিয়ডের সঙ্গে যদি কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
অনিয়মিত পিরিয়ডের পাশাপাশি নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা গেলে সতর্ক হতে হবে:
পেট ব্যথা সহ অতিরিক্ত রক্তপাত এবং ব্লাড ক্লট (রক্ত জমাট বাঁধা) এর সমস্যা।
দুই থেকে তিনটি পিরিয়ড ধরে পিরিয়ডের স্থায়িত্বকাল এক সপ্তাহের বেশি সময় অথবা মাত্র ২-৩ দিন থাকা।
দুই থেকে তিনটি পিরিয়ড ধরে প্রতি ২০ দিনের মধ্যেই পিরিয়ড দেখা দেওয়া।
৩৫ দিনের বেশি সময় পর্যন্ত পিরিয়ড না হওয়া।
কেন পিরিয়ডের অনিয়ম হয়?
সাধারণত কিছু বিশেষ শারীরিক সমস্যার জন্য পিরিয়ডের স্বাভাবিক প্যাটার্নে সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে:
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ
অতিরিক্ত শারীরিক চাপ
ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI)
থাইরয়েড ডিসঅর্ডার
পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS)
দীর্ঘমেয়াদী হরমোনাল মেডিকেশন
মেনোপজ (রজোনিবৃত্তি)
অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা দেখা দিলে সবার আগে উপরোক্ত কোনো সমস্যা আছে কি না তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। গর্ভধারণজনিত কারণে পিরিয়ড না হলে সেটাও নিশ্চিত হতে হবে। এছাড়া অনিয়মিত পিরিয়ডের সঙ্গে শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
অনিয়মিত পিরিয়ডের সমাধানে কিছু উপকারী খাদ্য উপাদান
পরিমিত এক্সারসাইজ এবং স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে এবং স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া চালু রাখতে সাহায্য করে। মানসিক চাপ কমাতে যেমন যোগা বা মেডিটেশনের প্রয়োজন হয়, শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখার জন্যও কিছু উপকারী খাদ্য উপাদানের প্রয়োজন হয়, যা অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
তিলের বীজ: পিরিয়ডের সময় তলপেটের ব্যথা কমাতে তিলের বীজের পানীয় পান করতে পারেন। এছাড়াও এই পানীয় দেরিতে পিরিয়ড হওয়ার সমস্যা দূর করে। পানীয়টি তৈরি করতে এক কাপ জলে এক চা চামচ তিলের বীজ মিশিয়ে উচ্চতাপে ফুটিয়ে ১/৪ কাপ জলে আনতে হবে। এরপর আধা চা চামচ গুঁড় মিশিয়ে পান করতে হবে।
আমলকী: ভিটামিন-সি তে পরিপূর্ণ এই প্রাকৃতিক ফলটির রস অতিরিক্ত রক্তপাতের সমস্যা কমায়। এছাড়া পিরিয়ডের ফলে মাথা ঘোরাভাব এবং বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যাও প্রতিহত করে। পাঁচ-ছয়টি বড় সাইজের আমলকীর রসের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করতে হবে।
দই ও মধুর পানীয়: অতিরিক্ত রক্তপাতের সঙ্গে প্রচণ্ড পেটেব্যথা কমাতে দই ও মধুর পানীয় পান করতে পারেন। দুই টেবিল চামচ দই, এক চা চামচ মধু ও স্বাদের জন্য এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিন। প্রয়োজনে অল্প জল যোগ করে পানীয়টি তৈরি করে পান করতে হবে।
উপকারী সবজি ও ফল: প্রাকৃতিক সকল সবজি ও ফল স্বাস্থ্যের জন্য নিশ্চিতভাবে উপকারী। তবে অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা এবং পিরিয়ডের উপসর্গ কমাতে কিছু বিশেষ সবজি ও ফল খাওয়া প্রয়োজন:
সবজি: গাজর, বিটরুট, ব্রোকলি, পালং শাক।
ফল: কাঁচা পেঁপে, আপেল ও আনারস।
পুদিনা ও ধনে পাতা: পুদিনা ও ধনে পাতার মিশ্রণ হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং পিরিয়ডের সময়কে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে। লবণ, বিট লবণ, আদা, রসুন, কাঁচামরিচের সঙ্গে পুদিনা ও ধনে পাতা মিশিয়ে চাটনি তৈরি করে প্রতিদিন খেতে পারেন।
মনে রাখবেন, ঘরোয়া প্রতিকারগুলো সহায়ক হতে পারে, তবে যদি আপনার পিরিয়ড সংক্রান্ত সমস্যাগুলো গুরুতর হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অবশ্যই একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।