নীরব ঘাতক ‘হাই প্রেসার’, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এড়াতে এই ৫টি লক্ষণে সতর্ক হোন এবং ৫ ঘরোয়া উপায় মেনে চলুন!

আমাদের অতি পরিচিত এবং মারাত্মক একটি শারীরিক সমস্যা হলো উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার। চিকিৎসকেরা সতর্ক করেন যে, প্রেসার অতিরিক্ত বেড়ে গেলে এটি স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, কিডনির সমস্যা-সহ অন্যান্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। হাই প্রেসারের রোগীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজেদের সমস্যা বুঝতে পারেন না, তাই এই রোগকে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়।
হাই প্রেসার কী?
স্বাভাবিকভাবে আমাদের হৃদপিণ্ড ধমনীর মাধ্যমে রক্ত সরবরাহ করে। কোনো কারণে ধমনী সরু হয়ে গেলে এই সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর যে চাপ পড়ে, তাকেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই প্রেসার বলে। প্রাপ্তবয়স্ক এবং সুস্থ যে কারও শরীরে রক্তচাপ ১২০/৮০ থাকলে তা স্বাভাবিক। এই চাপ ১৪০/৯০ এর চেয়ে বেশি হলে সেটিকে হাই প্রেসার হিসেবে ধরা হয়। ২০১৭-২০১৮ সালের বাংলাদেশ জনমিতি স্বাস্থ্য জরিপে দেখা গেছে, দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন।
উচ্চ রক্তচাপের প্রধান লক্ষণ:
মাথায় তীব্র ব্যথা।
নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া।
বুকে ব্যথা।
মাথা ঘোরানো।
চোখে ঝাপসা দেখা।
প্রসাবের সাথে রক্ত যাওয়া।
অনিদ্রা, অল্পতেই অস্থিরতা ও রেগে যাওয়া।
বমি বমি ভাব ও কানে শব্দ হওয়া।
যেসব কারণে হাই প্রেসার হয়:
পারিবারিক ইতিহাস, অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ, দীর্ঘদিনের ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যাস এবং কায়িক পরিশ্রম না করা এই রোগের মূল কারণ।
হাই প্রেসার কমানোর ৫ ঘরোয়া উপায়:
হাই প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অন্যান্য অসুখ থেকে দূরে থাকাও সহজ হবে।
১। মানসিক চাপ কমান: মানসিক চাপ শরীরের পেশিগুলোকে চাপের মুখে ফেলে রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। পুরোপুরি দূর করা সম্ভব না হলেও শান্ত পরিবেশে মেডিটেশন বা যোগা করলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমানো যায়। যেকোনো সমস্যায় ঠান্ডা মাথায় সমাধান খুঁজে বের করার অভ্যাস করুন।
২। ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন হাই প্রেসারের অন্যতম প্রধান কারণ। পুরুষের কোমরের পরিমাপ ৪০ ইঞ্চির কম এবং নারীর ক্ষেত্রে ৩৫ ইঞ্চির কম রাখা জরুরি। স্বাস্থ্যকর উপায় মেনে ওজন কমানোর চেষ্টা করুন।
৩। অতিরিক্ত লবণ পরিহার: অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে। আমেরিকান গাইডলাইন অনুসারে, প্রতিদিন ২,৩০০ মিলিগ্রামের (প্রায় এক চা চামচ) বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। খাবারে সঠিক মাত্রায় লবণ ব্যবহার করলে হাই প্রেসারের ঝুঁকি কমে।
৪। খাবারের তালিকায় পরিবর্তন: অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার এবং কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার হাই প্রেসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই খাদ্যতালিকা থেকে এসব বাদ দিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার যোগ করা জরুরি।
৫। নিয়মিত শরীরচর্চা ও বিশ্রাম: নিয়মিত শরীরচর্চা ও পরিশ্রমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন অন্তত দুইবার পাঁচ মিনিট করে হালকা ব্যায়াম, ইয়োগা বা হাঁটাহাঁটি করার পরামর্শ দেন। সেই সঙ্গে ধূমপান ও মদ্যপানের মতো বদ অভ্যাস আজই বাদ দিন, যা দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ।