দৈনন্দিন অভ্যাস এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার শরীরে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে

পুরুষদের কিছু অভ্যাস তাদের যৌন স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে যা গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রাণুর গুণমান না থাকায় অনেক দম্পতিরা সমস্যার সম্মুখীন হয়।

দৈনন্দিন অভ্যাস এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার শরীরে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে খুব সাধারণ কিছু অভ্যাস থেকে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যেতে পারে।

খুব সাধারণ কিছু অস্বাস্থ্যকর দৈনন্দিন অভ্যাস এখানে তুলে ধরা হল-

(১)কম ঘুমানো
কম ঘুমালে শরীরে সব ধরনেরই সমস্যা হতে পারে। মন ও শরীরের সঠিকমাত্রায় বিশ্রাম হলেই শুক্রানু হবে স্বাস্থ্যবান। কার্যকরী ও সক্রিয় শুক্রাণুর জন্য পরিপূর্ণ ঘুমের প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে একজন পুরুষের ন্যূনতম সাত-আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে।

(২) স্লিমফিট জিনস
স্লিমফিট জিনস হয়ত পুরুষদের আকর্ষণীয় লাগে দেখতে কিন্তু জিনসও শুক্রাণুর সংখ্যার পরিমাণ হ্রাস করতে পারে। বেশি চাপা জিনস বা প্যান্ট শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে, ফলে যে তাপ সৃষ্টি হয় তা শুক্রাণুর জন্য ভালো না।

(৩) কোলের উপর ল্যাপটপ রাখা
ল্যাপটপ কোলে রেখে ব্যবহার করতে হয়ত বেশি সুবিধাজনক লাগে। কিন্তু এই অভ্যাসের কারণে যে বাবা হয়ে একটি শিশু কোলে নেওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। হ্যাঁ, ল্যাপটপের মৌলিক কিছু উপাদান শুক্রাণুও হত্যা করতে পারে। যন্ত্রটি ঠান্ডা থাকার প্রয়োজন, যা অবশ্যই শরীরের বাইরে রেখে। কারণ যখন ল্যাপটপটি কোলের উপর রাখা হয়, এর গরম শরীরের সংস্পর্শে আসে। ফলস্বরূপ, শুক্রাণু মরে যেতে পারে।

(৪) তীব্র গরম জল ব্যবহার
সারাদিনের কাজ শেষে একটি দীর্ঘ উষ্ণ স্নান অবশ্যই কাম্য । তবে বাষ্পীয় গরম গোছল যেন তীব্র তাপমাত্রায় না হয় তাহলে শুক্রাণু ক্ষতি হতে পারে।

(৫) পকেটে ফোন রাখা
ফোনটি হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে হয়ত প্যান্টের সামনের পকেটে রাখা নিরাপদ মনে করছেন। কিন্তু এটিও শুক্রাণুর জন্য সম্ভাব্য ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে স্মার্ট ফোন থেকে যে বিকিরণ বের হয় তা পুরুষদের প্রজনন নষ্ট করতে শতকরা নয়ভাগ ভূমিকা রাখে।

(৬) কোমল পানীয় পানের অভ্যাস
কার্বনেটেড ড্রিঙ্ক বা কোমল পানীয় এবং খুব ঠাণ্ডা পানীয় পছন্দ করেন, তাহলে শুক্রাণুর গতিশীলতা প্রভাবিত হতে পারে। দিনে এক বোতল কার্বনেটেড পানীয় পান করলেও শুক্রাণুর গতিশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। তেমনি অত্যধিক বিয়ার পান করলে শুক্রাণু দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কারন কার্বনেটেড পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি থাকে, যা শরীরে ইনসুলিন তৈরীতে ব্যাহত করে এবং শুক্রাণু গতিশীলতা কমিয়ে দেয়।