দুধ কি সবার জন্য উপকারী? হৃদরোগ, ক্যান্সার ও পেটের সমস্যা বাড়াতে পারে এই ‘আদর্শ খাবার’—জানুন কেন সতর্ক থাকা জরুরি

দুধে আয়রন, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, পটাসিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ই, কে সহ হাজারো পুষ্টিগুণ বিদ্যমান। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই ‘আদর্শ খাদ্য’ সবার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়, বরং কিছু কঠিন রোগের কারণ হতে পারে। নিয়মিত দুধ পানের আগে কেন সতর্ক হওয়া জরুরি, তার কিছু কারণ নিচে আলোচনা করা হলো:

দুধের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও নেতিবাচক প্রভাব

 

১. হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি: দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাটকোলেস্টেরল থাকে। যা হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং অ্যালজাইমার রোগের অন্যতম কারণ হতে পারে। কোলেস্টেরল ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের আধিক্য হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

২. ক্যান্সারের ঝুঁকি (স্তন, ডিম্বাশয় ও প্রোস্টেট): বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দুধ স্তন, ডিম্বাশয় এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

  • স্তন ক্যান্সার: প্রায় ১০ হাজার নারীকে নিয়ে করা এক সমীক্ষা অনুসারে, কম দুধ খাওয়ার কারণে তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার (যেমন পনির, আইসক্রিম) প্রতিদিন খাওয়া স্তন ক্যান্সারের মৃত্যুর হার ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।

  • ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার: অতিরিক্ত দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণের কারণে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৩. হরমোনের ওপর বিরূপ প্রভাব: দুধে থাকা বিভিন্ন হরমোন শরীরের এস্ট্রোজেন এবং গ্রোথ হরমোনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। ২০১৬ সালের এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের ওপর দুধ পান করিয়ে তাদের শরীরে এস্ট্রোজেন হরমোনের পরিবর্তন লক্ষ করেন। যদিও বিজ্ঞানীরা এখনও এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে পারেননি, তবে দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারে থাকা হরমোন শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত রয়েছে।

৪. হজমের সমস্যা (ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স): দুধে থাকা ল্যাকটোজ অতিরিক্ত গ্রহণের মাধ্যমে পেট খারাপ, ডায়রিয়া এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে।

৫. হাড়ের স্বাস্থ্যে খুব বেশি উপকার নয়: ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক সমীক্ষা অনুসারে, দুগ্ধজাত খাবার হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য খুব বেশি উপকার করে না—এর কোনো প্রমাণ নেই।

৬. দুধের অ্যালার্জি: ল্যাকটোজের কারণে অ্যালার্জি থাকা ব্যক্তিরা দুধ পান করলে, তাদের শরীরে অস্বাভাবিক ইমিউনোলজিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এর ফলে ইমিউনোগ্লোবিউলিন ই (IgE)-এর মতো অ্যালার্জিক অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।

  • উপসর্গ: বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, আমবাত, মলে রক্ত ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।

  • সতর্কতা: দুধ খাওয়ার পরে যদি কারো ফোলাভাব বা শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, তবে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। যাদের দুধের অ্যালার্জি আছে, তাদের মাখন, পনির ও দইয়ের মতো দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।

পরামর্শ:

নিয়মিত দুধ সেবনের আগে অবশ্যই পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না। কারণ দুধে থাকা ক্ষতির প্রভাবে শরীর সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে খারাপও হতে পারে।