দাঁতের যত্ন তো নেন, মাড়ির খবর রাখেন কি? এই ৫টি অভ্যাস ডেকে আনছে মারাত্মক বিপদ!

দাঁত থাকতে দাঁতের মর্ম না বোঝার প্রবণতা নতুন নয়। তবে দাঁতের থেকেও বেশি অবহেলিত মুখের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল মাড়ি। অনেকেই হয়তো জানেন না, দাঁতের অনেক সমস্যার শুরুটা কিন্তু মাড়ি থেকেই হয়। আমাদের প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাস নীরবে ডেকে আনতে পারে মাড়ির নানা জটিল রোগ। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়া জরুরি। জেনে নিন সেই ৫টি অভ্যাস যা আপনার মাড়ির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে:

১. ভুলভাবে দাঁত ব্রাশ করা:

নিয়মিত অন্তত দু’বার দাঁত ব্রাশ করা অপরিহার্য। তবে অনেকেই তাড়াহুড়ো করে অথবা ভুল পদ্ধতিতে ব্রাশ করেন। এর ফলে দাঁতের ফাঁকে এবং মাড়ির কিনারায় খাদ্যকণা ও প্লাক জমে থাকে। এই প্লাক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের প্রধান কারণ এবং এর থেকেই মাড়িতে প্রদাহ (গিংগিভাইটিস) বা পেরিওডনটাইটিসের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত জোরে ব্রাশ করলে মাড়ির সংবেদনশীল টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা রক্তপাত ও ব্যথার কারণ হয়।

২. ফ্লস ব্যবহার না করা:

দাঁত ব্রাশ করার পরেও দুটি দাঁতের মধ্যবর্তী স্থান পরিষ্কার করা কঠিন। ব্রাশ সেই অংশে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারে না। প্রতিদিন ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার না করলে এই ফাঁকগুলোতে খাবার ও জীবাণু জমে মাড়ির সংক্রমণ এবং রোগের ঝুঁকি অনেকগুণ বাড়িয়ে তোলে। ফ্লস ব্যবহারের মাধ্যমে দাঁতের ফাঁকের প্লাক ও খাদ্যকণা পরিষ্কার করা যায়, যা মাড়িকে সুস্থ রাখতে অত্যন্ত জরুরি।

৩. ধূমপান ও তামাক সেবন:

ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য (যেমন – গুটখা, জর্দা) সেবন মাড়ির স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। তামাক মাড়িতে রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়, যার ফলে মাড়ির কোষগুলো প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অক্সিজেন পায় না। এটি মাড়ির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল করে তোলে। ফলে সংক্রমণ সহজে ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাময় হতেও বেশি সময় লাগে। ধূমপান মাড়ির রোগের তীব্রতাও বৃদ্ধি করে।

৪. অতিরিক্ত মিষ্টি ও শর্করাজাতীয় খাবার গ্রহণ:

চিনি বা শর্করাযুক্ত খাবার ও পানীয় মুখের ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধিকে দ্রুত করে তোলে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি শর্করাকে অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে, যা দাঁতের এনামেল ক্ষয় করার পাশাপাশি মাড়িতেও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার দাঁতের পাশাপাশি মাড়ির স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।

৫. মুখ শুকনো থাকা:

মুখের লালা প্রাকৃতিকভাবে মুখকে পরিষ্কার রাখতে এবং অ্যাসিডকে নিষ্ক্রিয় করতে সহায়ক। অনেক সময় কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বয়সজনিত কারণ অথবা কিছু বিশেষ রোগের কারণে মুখে লালা নিঃসরণ কমে যেতে পারে। মুখ শুকনো থাকলে ব্যাকটেরিয়া সহজে বংশবৃদ্ধি করে এবং মাড়ির রোগের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত জল পান না করাও মুখ শুকিয়ে যাওয়ার একটি অন্যতম প্রধান কারণ।

দাঁতের পাশাপাশি মাড়ির সঠিক যত্ন নেওয়াও মুখের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপরোক্ত অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে এবং সঠিক মুখ পরিচর্যার রুটিন মেনে চললে মাড়ির বিভিন্ন সমস্যা এড়ানো সম্ভব। তাই আজ থেকেই আপনার দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনুন এবং আপনার মাড়িকে সুস্থ রাখুন। কারণ, সুস্থ মাড়িই সুস্থ দাঁতের ভিত্তি!