তাড়াহুড়ো নয়, মসুর ডালও ভিজিয়ে খান, মিলবে স্বাস্থ্যগুণ

দৈনন্দিন রান্নায় ডালের কদর আজও অমলিন। বিশেষত, মসুর ডাল অনেকেরই প্রথম পছন্দ। এর প্রধান কারণ হল অন্যান্য ডালের তুলনায় এটি রান্না করতে কম সময় লাগে, দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রাখারও প্রয়োজন হয় না। ফলে, ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে মসুর ডাল একটি জনপ্রিয় বিকল্প।

তবে, হার্ভার্ডের টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর গবেষকরা জানাচ্ছেন, মসুর ডাল রান্নার ক্ষেত্রেও তাড়াহুড়ো করা উচিত নয়। তাঁদের মতে, এই ডালটিও যদি রান্নার আগে অন্তত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা হয়, তবে এর পুষ্টিগুণ বহুলাংশে বৃদ্ধি পায় এবং হজমও সহজ হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, মসুর ডালে ফাইটেজ নামক একটি বিশেষ এনজাইম present থাকে। ডাল কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে এই এনজাইমটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। সক্রিয় ফাইটেজ ফাইটিক অ্যাসিডকে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে। এর ফলে ডালে থাকা ক্যালসিয়াম, আয়রন ও জিঙ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির বন্ধন আরও মজবুত হয়, যা শরীর দ্রুত এবং সহজে গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।

শুধু তাই নয়, মসুর ডাল ভিজিয়ে রাখলে অ্যামাইলেজ নামক আরও একটি উপকারী উপাদান সক্রিয় হয়। এই উপাদানটি ডালে থাকা জটিল শর্করাকে ভেঙে সরল করে তোলে। ফলে, ডাল অনেক সহজে হজমযোগ্য হয়ে ওঠে এবং পেটের উপর চাপ কম পড়ে।

এছাড়াও, যারা ডাল খাওয়ার পর গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য মসুর ডাল ভিজিয়ে খাওয়া বিশেষভাবে উপকারী। বেশিরভাগ ডালেই অলিগোস্যাকারাইডস নামক এক প্রকার জটিল যৌগ থাকে, যা কমপ্লেক্স সুগার নামেও পরিচিত। এই যৌগটিই পেটে গ্যাস তৈরির প্রধান কারণ। মসুর ডাল রান্নার আগে ভিজিয়ে রাখলে এই উপাদানটির কার্যকারিতা হ্রাস পায়, ফলে গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।

অতএব, সময় বাঁচানোর জন্য মসুর ডাল নিঃসন্দেহে একটি ভালো বিকল্প, তবে এর সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে এবং হজম সংক্রান্ত সমস্যা এড়াতে রান্নার আগে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষজনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস হতে পারে।