ঝগড়া কি কেবল সম্পর্ক নষ্ট করে? গবেষণা বলছে, বরং ভালোবাসাই বাড়ে!

সম্পর্কে ঝগড়া মানেই কি বিচ্ছেদ বা তিক্ততা? প্রচলিত এই ধারণাটি ভুল প্রমাণ করছে সাম্প্রতিক গবেষণা। মনোবিদরা বলছেন, রাগ পুষে না রেখে বরং মন খুলে ঝগড়া করলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও মজবুত হয়, এমনকি ভালোবাসাও বাড়ে! প্রত্যেকেরই নিজস্ব মতামত প্রকাশের অধিকার আছে এবং ছোটখাটো মতবিরোধ সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ। বরং ঝগড়া না হওয়াটাই অস্বাভাবিক।
জানলে অবাক হবেন, ঝগড়া করলে মন হালকা হয় এবং এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। ভেতরে জমে থাকা কথা এক সময় মানসিক রোগের কারণ হতে পারে, কিন্তু ঝগড়া সে চাপ কমিয়ে দেয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ঝগড়ার এমন কিছু অপ্রত্যাশিত উপকারিতা।
ঝগড়ার ইতিবাচক দিকগুলো:
অভিমান দূর হয়: সঙ্গীর কোনো কাজ খারাপ লাগতেই পারে। সেই খারাপ লাগা নিজের মধ্যে পুষে না রেখে সরাসরি বলে দিলে সব ধরনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। হয়তো সাময়িক মনোমালিন্য হতে পারে, কিন্তু মুষলধারে বৃষ্টি শেষে যেমন আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়, তেমনই দীর্ঘ ঝগড়ার শেষে মান-অভিমান দুজনকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। এতে সম্পর্ক আরও মজবুত ও দৃঢ় হয়।
বিশ্বাস বাড়ে, সন্দেহ দূর হয়: দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতে পারে। এর ফলে বিশ্বাসের ভিত আরও মজবুত হয়, কারণ ঝগড়ার মাধ্যমে মনের লুকানো ক্ষোভ ও অভিমান প্রকাশ পায়। অনেকেই সঙ্গীর প্রতি সন্দেহপ্রবণ হয়ে ঝগড়া বা অশান্তি করেন। এক্ষেত্রে সঙ্গীও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করে, যা দুজনের মধ্যকার অবিশ্বাস ও সন্দেহ দূর করে সম্পর্ককে আরও স্বচ্ছ করে তোলে।
সম্পর্ক মজবুত হয়: মনোবিদরা বলছেন, ঝগড়ায় মন হালকা হয়। বর্তমানের যান্ত্রিক জীবনে অনেক দম্পতিই একে অপরকে যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। তাদের ক্ষেত্রে ঝগড়া সম্পর্ককে আরও মজবুত করে। এমন দম্পতিরা প্রয়োজনে অকারণেই ঝগড়া করে সারা সপ্তাহ সঙ্গীর প্রতি যত রাগ-অভিমান পুষে রেখেছেন, তা প্রকাশ করে মন হালকা করতে পারেন।
ধৈর্যশক্তি বাড়ায়: দাম্পত্য জীবনে ঝগড়া দুজনকে আরও ধৈর্যশীল করে তোলে। অনেকক্ষণ ঝগড়ার পর হয়তো ক্লান্ত লাগতে পারে বা অশান্তি বাড়াতে না চাইলে আপনি চুপ হয়ে যেতে পারেন। এর অর্থ হলো আপনি ধৈর্যধারণ করছেন। আপনার এমন মনোভাব দেখে একসময় সঙ্গীও চুপ হয়ে যাবেন, যা দীর্ঘমেয়াদে দুজনকেই ধৈর্যশীল হতে শেখায়।